অনায়াসে জেতার পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ কঠিন করে হারের কাছে চলে গিয়েছিলো। জিততে শেষ বলে দরকার ছিলো ছক্কা। ফাহিম আশরাফের বলে কাভার দিয়ে উড়িয়ে দিলেন ক্রিস ওকস। লো স্কোরিং ম্যাচে অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চে রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করে সিলেট টাইটান্সকে জেতালেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচ হলো উত্তেজনায় ঠাসা। রংপুরের করা মাত্র ১১১ রান একদম শেষ বলে গিয়ে তুলে নিল সিলেট। ৩ উইকেটের জয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল তারা। অন্যদিকে ফেভারিট হয়েও ফাইনালের আগে বিদায় নিল রংপুর।
৪ বলে ১ ছক্কায় অপরাজিত ১০ রান করে নায়ক ওকস। এর আগে বল হাতেও ঝলক দেখান তিনি। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে ৯ রান দরকার ছিল সিলেটের। ফাহিম আশরাফের প্রথম চার বলে কেবল ২ রান আসে এবং বিদায় নেন মঈন আলি। ম্যাচ তখন রংপুরের দিকে হেলে পড়েছে। পঞ্চম বলে খালেদ আহমেদ এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন ওকসকে। শেষ বলে ওয়াইড লেংথের শর্ট বল পেয়ে দারুণ শটে গ্যালারিতে পাঠান ওকস।
সহজ রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট হারায় সিলেট। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তৌফিক খান তুষার। তিনে নামা আরিফুল ইসলামকে নিয়ে এরপর এগুতে থাকেন পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনের জুটি জমে উঠতেই আঘাত হানেন আলিস আল ইসলাম। পারভেজকে স্টাম্পিংয়ের শিকার বানানোর পর আফিফ হোসেনকে দারুণ বলে বোল্ড করেন তিনি। এর আগে আরিফুল নাহিদ রানার বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট।
ট্রিকি পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজ আর স্যাম বিলিংস ৫৪ বলে যোগ করেন মহামূল্যবান ৫০ রান। ম্যাচ তখন প্রায় সিলেটের মুঠোয়। খুশদিল শাহর বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিরাজ যখন ফিরে যান, তখনও সিলেটের জয়ের জন্য ১৮ বলে ১৮ রান দরকার ছিল। কিন্তু সেই সহজ সমীকরণ আচমকা কঠিন হয়ে যায়।
৪০ বলে ২৯ রান করে বিলিংস আউট হওয়ার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ১৯তম ওভার থেকে আসে কেবল ৬ রান এবং বিলিংসের উইকেট। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর ফিনিশিংয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে সিলেট। অন্যদিকে, বিবর্ণ আসর শেষ করে হতাশায় ডোবে রংপুর।
এর আগে ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস জিতে বোলিং বেছে বাজিমাত করে সিলেট। শুরু থেকেই বাউন্স ও মুভমেন্ট পাচ্ছিলেন পেসাররা। তাতে ওকস ও খালেদ হয়ে ওঠেন দুর্ধর্ষ। ২৯ রানে ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে শুরুতেই রংপুরকে চেপে ধরে সিলেট।
পঞ্চম উইকেটে খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহর ৩৪ রানের জুটি প্রতিরোধ গড়ে। মাহমুদউল্লাহ ক্রিজ আগলে ছিলেন এবং খুশদিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন। এই গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। এরপর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে এগুতে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। থিতু হওয়া অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে (২৬ বলে ৩৩) তুলে নেন নাসুম।
শুরুতে উইকেট নেওয়া খালেদ শেষ দিকেও হানা দেন। সোহান ও ফাহিম আশরাফকে আউট করে রংপুরের রানের গতি কমিয়ে দেন তিনি। ফলে তিন অঙ্ক পেরোলেও বেশি দূর যেতে পারেনি লিটন দাসের দল। অল্প পুঁজি নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করলেও শেষ হাসি আর হাসা হলো না তাদের।
