ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি ধারণা করতে চান না পেপ গার্দিওলা। নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কতটা বদলে যেতে পারে, সে অনিশ্চয়তাই তাকে বেশি সতর্ক করে তুলেছে। তাই ইউনাইটেডকে বিশ্লেষণ করার চেয়ে নিজের দলের প্রস্তুতিতেই মনোযোগ রাখছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ কোচ।
শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রিমিয়ার লিগের ডার্বিতে প্রথমবারের মতো ইউনাইটেডের ডাগআউটে থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক। রুবেন আমোরিকে বরখাস্ত করার পর মৌসুমের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক এই মিডফিল্ডারকে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে জয়হীন ইউনাইটেড লিগে আছে সপ্তম স্থানে। অন্যদিকে সিটি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে। সেপ্টেম্বরে দুই দলের শেষ দেখায় ৩–০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিল গার্দিওলার দল।
তবু নতুন নেতৃত্বে পরিচিত প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন গার্দিওলা। ক্যারিকের মিডলসব্রো অধ্যায় কিংবা আগে ইউনাইটেডে তত্ত্বাবধায়ক কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, সেগুলো দিয়ে বর্তমান ইউনাইটেডকে পুরোপুরি বোঝা কঠিন বলেই মনে করেন তিনি।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা বলেন, ‘প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যদি খুব বেশি তথ্য না থাকে, তাহলে নিজের দল ও খেলোয়াড়দের দিকেই মনোযোগ দেওয়া ভালো। মিডলসব্রোতে মাইকেল কী করেছে বা ইউনাইটেডে আগে যখন ছিল, এসব থেকে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু কৌশল আসলে খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে, আর কাল যারা খেলবে তারা মিডলসব্রোর খেলোয়াড়দের মতো নয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘ম্যাচের ১০ মিনিট পর তো আর টাইম-আউট নিয়ে খেলোয়াড়দের বলে দিতে পারব না, মাইকেল কী করতে চাইছে। তাই যখন তথ্য কম থাকে, তখন নিজের ওপর ফোকাস করাই সবচেয়ে ভালো।’
গার্দিওলার দীর্ঘ সময় সিটিতে থাকা নিয়েও উঠে আসে প্রশ্ন। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউনাইটেডে বদলেছে নয়জন কোচ, অন্তর্বর্তী ও তত্ত্বাবধায়ক মিলিয়ে। মাঠের সাফল্যে দুই ক্লাবের এই বৈপরীত্যও চোখে পড়ার মতো।
এ প্রসঙ্গে গার্দিওলা বলেন, ‘ফলাফলই সব। আপনি না জিতলে বরখাস্ত হবেন। আমরা যদি না জিততাম, আমিও থাকতাম না। আমরা অনেক কিছু জিতেছি, তাই আজ এখানে বসে আছি, এর বাইরে কোনো গোপন রহস্য নেই।’
তার অধীনে সিটির ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয়েছে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তবে গত মৌসুমে কঠিন সময় পার করতে হয় তাকে, লিভারপুলের অনেক পেছনে থেকে তৃতীয় হয়ে শেষ করে সিটি।
‘অন্য কোনো ক্লাবে হলে গত মৌসুমের পর আমি থাকতাম না। তারা হয়তো একটু বেশি ধৈর্য ধরেছে, কারণ অতীতে আমরা কী করেছি। তিন মাস খুবই বাজে কেটেছিল। কিন্তু অতীতটা ভালো ছিল বলেই আমি এখনও এখানে,’ বলেন গার্দিওলা।
ডার্বির আগে গার্দিওলার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ইনজুরি–আক্রান্ত রক্ষণভাগ। জন স্টোনস, রুবেন দিয়াস ও জেশকো গভারদিওল তিনজনই বাইরে থাকায় দীর্ঘমেয়াদে ভুগতে হচ্ছে সিটিকে। গার্দিওলা জানান, ‘রুবেন খুব শিগগির ফিরবে, জেশকো নয়। জনের ব্যাপারে আশা করছি, দেখা যাক।’
এদিকে ক্রিস্টাল প্যালেসের ডিফেন্ডার মার্ক গেহিকে ঘিরে গুঞ্জন থাকলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি গার্দিওলা। তবে প্যালেস কোচ অলিভার গ্লাসনার নিশ্চিত করেছেন, সেন্টার ব্যাকটি শিগগিরই ক্লাব ছাড়ছেন, যদিও গন্তব্যের নাম জানাননি।
