দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অযাচিতভাবে সামরিক আইন জারির পর তাকে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে এই সাজা দিয়েছেন আদালত।
আজ শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের পর সাজা দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
রায়ে বলা হয়, ইউন সুক–ইওল প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বৈধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দেন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।
তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল জানায়, ৬৫ বছর বয়সী ইউনের বিরুদ্ধে সরকারি নথি জালিয়াতি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই অসাংবিধানিকভাবে সামরিক আইন জারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
সাজা ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি ইউন সুক–ইওল।
তবে ইউনের আইনজীবী ইউ জং-হুয়া এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রাষ্ট্রদ্রোহের আলাদা একটি মামলায় ইউনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন।
ওই মামলায় বলা হয়, পার্লামেন্ট স্থগিত করে অবৈধভাবে দেশে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইউন।
ইউনকে বর্তমানে রাজধানীর বাইরে একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওল।
বলা হয়, এর মাধ্যমে দেশকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দেন ইউন। তবে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সামরিক আইন জারির মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।
এ ঘটনার জেরে ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরের বছর ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়ে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন ইউন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
ইউনের দাবি, বিরোধী দলগুলোর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতেই সামরিক আইন জারি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তার এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার আওতায় বলেও দাবি করেন তিনি।
