চলমান ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছেন সাত থেকে সত্তর সব বয়সী খেলোয়াড়রা। আয়োজক, আম্পায়ার, করপোরেট কর্মকর্তাদের সন্তান, শিক্ষার্থী ও মৌসুমি খেলোয়াড়, সবারই উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে শত শত প্রতিযোগীর ভিড়ে একটি গল্প আলাদা করে চোখে পড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ১৭ বছর বয়সী প্রবাসী প্যাডলার জাইয়ান মাহদিনের। বাবার এক সময়ের স্বপ্ন বাংলাদেশের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা, সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন দেশে।
জাতীয় পর্যায়ের সাবেক প্যাডলার শামীম ওয়াহিদের ছেলে জাইয়ান বড় হয়েছেন আবুধাবিতে বাবার বিলিয়ার্ডস ও টেবিল টেনিস একাডেমির পরিবেশে। এবারের আসরে তিনি বাংলাদেশ বিমানের হয়ে খেলছেন। এর আগে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন মাসকুদ আহমেদের বিশেষ অনুমতিতে মিসরের ডব্লিউটিটিটি ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেছিলেন তিনি।
গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে জাইয়ান বলেন, ‘আমি সব সময়ই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে চেয়েছি, যেখানে একসময় আমার বাবা খেলেছিলেন। বাংলাদেশ বিমান আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছে, আর অভিজ্ঞতাটা আমি দারুণ উপভোগ করছি। এখানে খেললে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলের নতুন খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হতে হয়।’
বর্তমানে গ্রেড-১২ এর শিক্ষার্থী জাইয়ান অনূর্ধ্ব-১৯ একক ও দ্বৈত বিভাগে অংশ নেন। কয়েকটি ম্যাচ জয়ের পর রাউন্ড অব ৩২-এ জাতীয় বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের কাছে বিদায় নেন তিনি। পুরুষ একক বিভাগেও খেলেছেন জাইয়ান, ‘আমি আবুধাবির একটি ক্লাবের হয়ে খেলি এবং নিয়মিত সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে টুর্নামেন্টে অংশ নিই। সেখানে আমার জয়–পরাজয় দুটোই হয়েছে, কয়েকটি ইভেন্টেও শিরোপা জিতেছি।’
এখন বাংলাদেশ সিনিয়র দলে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জাইয়ান, ‘প্রতিটি খেলোয়াড়ই একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। আমি প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা অনুশীলন করি, আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারব এই আশাই রাখি।’
চ্যাম্পিয়নশিপে জাইয়ানের সঙ্গে রয়েছেন তার বাবা-মা শামীম ওয়াহিদ ও নাতাশা ওয়াহিদ। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে যশোর জেলার হয়ে একাধিকবার খেলা শামীম বলেন, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাওয়ার পরও খেলাটির প্রতি তার আগ্রহ কখনোই কমেনি।
শামীম বলেন, ‘প্রথম যখন ছেলেকে একটি একাডেমিতে ভর্তি করাই, তখন তারা ওকে মৌলিক বিষয়গুলোই শেখাতে পারেনি। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই, নিজেই একটি একাডেমি শুরু করব।’
২০১৯ সালে তিনি ‘লেজেন্ডস বিলিয়ার্ডস অ্যান্ড টেবিল টেনিস হল’ চালু করেন, যেখানে টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ডস, স্নুকার ও একটি ক্যাফে একসঙ্গে রয়েছে। আইটিটিএফ লেভেল-১ সনদপ্রাপ্ত এই কোচ বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ২৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
শামীম বলেন, ‘জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অনুভূতিটা যেন জাইয়ান নিজে উপলব্ধি করতে পারে, এ জন্যই ওকে বাংলাদেশে এনেছি। যদি সে এই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে চায়, আমরা তাকে পুরোপুরি সমর্থন দেব।’
