চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ ব্যয় না হওয়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা কমানোর পথে হাঁটছে সরকার। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত বেশি চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের বরাদ্দ প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। কারণ, জুলাই থেকে নভেম্বর সময়কালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বরাদ্দ ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ হার ২০১০-১১ অর্থবছরের পর সর্বনিম্ন।
পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত সংশোধিত এডিপির খসড়া অনুযায়ী, মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকায়, যা মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম।
দ্য ডেইলি স্টারের হাতে আসা খসড়া অনুযায়ী, এটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সভায় অনুমোদন পেলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সংশোধিত এডিপি কার্যকর হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গত অর্থবছরে ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে এডিপি বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। তবে চলতি অর্থবছরে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
বেসরকারি বিনিয়োগ যখন স্থবির, তখন সরকারি বিনিয়োগের এই ধীরগতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গত ১০ জানুয়ারি চলতি অর্থবছর নিয়ে স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক পর্যালোচনা প্রকাশ করে এ কথা জানায় সংস্থাটি।
বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে প্রস্তাবিত সংশোধিত এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। একইভাবে কৃষি, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতেও বরাদ্দ কমার আশঙ্কা রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া পাঁচটি খাতের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ থাকছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট সংশোধিত এডিপির ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
এ ছাড়া আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ ২২ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা, শিক্ষা খাতে ১৮ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৫ হাজার ১৪২ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে।
এই পাঁচটি খাত মিলিয়ে মোট সংশোধিত বরাদ্দের প্রায় ৬০ শতাংশ।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের সংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০-এ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মূল এডিপিতে ছিল ১ হাজার ১৭৩টি। এর মধ্যে নতুনভাবে অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ১৩৮টি।
যদিও অধিকাংশ প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে, কিছু প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়তেও পারে। চীনা ঋণে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বরাদ্দ মূল ৩ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা থেকে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো প্রকল্পে বরাদ্দ কিছুটা কমানো হতে পারে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকছে।
