জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে ঘোষণার পরদিনই দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক হলো।
গতকাল রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জোটের দুই শীর্ষ নেতার একান্ত এই আলোচনায় আসন বণ্টন এবং সার্বিক নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কথা হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোটের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে একে ‘বিশেষ সাক্ষাৎ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপিসহ সমমনা ১১ দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোর আলোচনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ধারণা করা হচ্ছে, সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপি প্রায় ৩০টি আসনে মনোনয়ন পেতে পারে।
আসন সমঝোতা আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বৈঠকে সার্বিক নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন ভাগাভাগির বিষয়টিও আলোচনার অংশ ছিল। আজ (সোমবার) বা আগামীকালের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।’
এর আগে শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দু-এক দিনের মধ্যেই জোটে তার দল কয়টি আসন পাবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
জামায়াতের সূত্রমতে, এনসিপিকে প্রায় ৩০টি আসন দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া এলডিপি ও খেলাফত মজলিস ৭টি করে, এবি পার্টি ২-৩টি এবং বিডিপি ২টি আসন পেতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সর্বোচ্চ ১৫টি আসন পেতে পারে বলে জানা গেছে।
