বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টের রাজত্ব থামিয়ে আফ্রিকান নেশনস কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মিশর। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাওয়া এই জয়কে ‘নিখুঁত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মিশরীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ।
গত শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে আইভরি কোস্টকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে হোসাম হাসানের দল। ম্যাচে লিভারপুল তারকা সালাহ দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ১১টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে গোল করার অনন্য এক রেকর্ড গড়েন তিনি।
আগামী বুধবার সেমিফাইনালে সেনেগালের মুখোমুখি হবে মিশর। ২০২১ সালের এএফসিওএন ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাওয়া এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে তাঞ্জিয়ারে।
সালাহ সিএএফ মিডিয়াকে বলেন, ‘এটি একটি নিখুঁত জয় ছিল। তবে আমি আগেও বলেছি, আমরা মূলত আমাদের দেশের জন্য লড়ছি।’
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি আমরা পরের ম্যাচেও জয় পাব। প্রতিপক্ষ খুবই শক্তিশালী, তবে আমরা আমাদের সেরাটা দেব। খেলোয়াড়রা জানপ্রাণ দিয়ে লড়ছে, আপনারা দেখছেন কেউ কোনো ছাড় দিচ্ছে না। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’
হাসানের রেকর্ডে ভাগ বসালেন সালাহ
এই জয়ের দিনে একটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও ছুঁয়েছেন সালাহ। ১১ গোল নিয়ে তিনি এখন এএফসিওএন-এ মিশরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের কোচ হোসাম হাসানের রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর মাত্র একটি গোল করলে তিনি হাসান এল-শাজলির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টে মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসবেন।
মিশর ‘ফেবারিট’ নয়
তবে শিরোপা জয়ের দৌড়ে মিশরকে এখনই নিরঙ্কুশ ফেবারিট মানতে নারাজ ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সালাহর মতে, নাইজেরিয়া, মরক্কো বা সেনেগালের মতো দলগুলোর অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলেন, যা তাদের বাড়তি সুবিধা দেয়।
বিইন স্পোর্টসকে সালাহ বলেন, ‘আমাদের দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় ঘরোয়া লিগে খেলেন। এটি তাদের খাটো করার জন্য বলছি না, তবে আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি বলেই সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
সেমিফাইনাল নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। তাদের এমন একটি দল রয়েছে যারা ইউরোপে উচ্চপর্যায়ে খেলে। তবে আমি আশাবাদী আমরা জয়ী হতে পারব।’
