বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আজ রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ’-এর কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন গঠিত বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ সকাল ১০টায় ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ব্যাংক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে দুর্বল পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে এই ব্যাংকটি গঠন করা হচ্ছে।
গতকাল জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ‘অনিবার্য কারণে’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে না।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের অনেক আমানতকারী ও ব্যাংককর্মী অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিক্ষোভের আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেই অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চলতি মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ডাক থাকায়, আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াই ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংককে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতের ওপর কোনো মুনাফা না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। ওই সিদ্ধান্তে আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য মুদারাবা সঞ্চয় ও মেয়াদি আমানত হিসাবের ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে অস্থায়ী মুনাফা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত সপ্তাহে পাঁচটি ব্যাংকের কাছে আলাদাভাবে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, এই সংশোধিত নির্দেশনা শুধু ব্যক্তিগত আমানতকারীদের জন্য প্রযোজ্য।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।
