-3 C
New York

কারা ফটকে শেষ দেখা ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের লাশ

গতকাল সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকের সামনে এসে থামে একটি অ্যাম্বুলেন্স। তাতে ছিল এক তরুণী ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রের মরদেহ। তারা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কারাবন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও পুত্র। সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরদেহ নিয়েই তাদের জেলগেটে আসতে হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে জেলগেট এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাদ্দাম সেখানে এসে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও ছেলে নাজিমকে দেখেন।

গতকাল দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং মেঝেতে পড়ে থাকা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বর্ণালীর ভাই শুভ সাংবাদিকদের জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সাদ্দামের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়।

শুভ দাবি করেন, স্বামীর কারাবাসের কারণে তার বোন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। সে সাদ্দামের মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। হতাশায় সে নিজের ৯ মাসের সন্তানকে বালতির পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করে।

স্বর্ণালীর বাবা স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেব।’

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুম খান জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বর্ণালীর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে।’

স্বামীর প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Latest Articles