বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
আজ শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে কুইন্স গার্ডেনে সাংবাদিকদের নাহিদ বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে আমরা ভয়ের পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘বিদ্যুতের তারে বিএনপির পোস্টার ঝোলানো হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। অন্যদিকে, আমাদের ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। আমাদের শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও কর্মীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে তাদের আটক, মামলা বা ভোটের পর “ব্যবস্থা নেওয়ার” হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘কিন্তু আমরা চাই মানুষ স্বাধীন ও নির্ভয়ে ভোট দিক। আমরা সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে, তাহলে সেদিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে জামানত রাখবে আর কে রাখবে না।’
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে বিএনপিকে যে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগের ফল। চূড়ান্ত পর্যায়ে যদি দেখি কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে, তাহলে এর বিরুদ্ধে আমরা সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করবো—এটাই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের সতর্কবার্তা।
স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে মাদক পাচারও ব্যাপক আকারে চলছে, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে—এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মদদ রয়েছে। এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে হলে দুটিকেই মোকাবিলা করতে হবে।’
ভূমি ও অবৈধ দখলদারি নিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতের মতো ভূমি দখলের ঘটনাগুলো এখনও চলছে, বিশেষ করে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাধ্যমে। আমরা দুর্নীতি, বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং জাতীয় সংস্কারের পক্ষে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
‘আমরা বাংলাদেশকে অতীতে ফিরে যেতে দিতে চাই না। নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান আমরা সহ্য করব না,’ যোগ করেন তিনি।
