-3 C
New York

তিন নায়িকার স্মৃতিতে নায়ক রাজ রাজ্জাক

বাংলা সিনেমা যার হাত ধরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল তিনি হলেন রাজ্জাক। ভালোবেসে পেয়েছিলেন রাজ উপাধি। তার অভিনয় মুগ্ধ করেছিল কয়েক প্রজন্মের দর্শককে। রোমান্টিক, সামাজিক কিংবা অ্যাকশন সব ধরনের চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল ও সফল।

আজ ২৩ জানুয়ারি নায়ক রাজ রাজ্জাকের জন্মদিন। বাংলা চলচ্চিত্রের তিন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা, সুচন্দা ও রোজিনা তাকে নিয়ে স্মৃতি, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

নায়ক রাজ রাজ্জাক একজনই—এ কথা স্বীকার করতেই হবে। ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে তার নাম চিরদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। একটা পুরো জীবন তিনি শুধু সিনেমার জন্যই উৎসর্গ করেছেন। তার ভাবনা, স্বপ্ন ও ধ্যানে ছিল শুধুই সিনেমা। সিনেমার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল প্রবল। সারাজীবন তিনি এই কাজটাই করে গেছেন।

আমি তার বিপরীতে অনেক সিনেমায় নায়িকা হয়েছি, অনেক সিনেমাই সুপারডুপার হিট করেছে। তিনি অনেক নায়িকার সঙ্গেই জুটি বেঁধেছেন, তবে আমার সঙ্গেও তার জুটি ছিল বেশ আলোচিত। কাজ করতে করতে আমরা যেন একই পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছিলাম। তার পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে সবসময়ই নিমন্ত্রণ পেতাম। তাকে সবসময় অভিভাবকের মতো মনে করতাম। খুব স্নেহ করতেন। বড় ভাই হিসেবেই দেখতাম তাকে।

নায়ক হিসেবে তাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। তিনি চিরসবুজ নায়ক। মনে পড়ে, স্বরলিপি সিনেমায় প্রথম আমরা দুজন জুটি হয়েছিলাম।

বেহুলা সিনেমার মাধ্যমেই রাজ্জাকের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে রূপালি পর্দায় দর্শক আমাদের একসঙ্গে দেখেন। সিনেমাটি দর্শকদের খুব ভালো লেগেছিল। সেখান থেকেই সুচন্দা–রাজ্জাক জুটির শুরু। এরপর আমরা একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করেছি, যেগুলোর অনেকগুলোই ব্যবসাসফল হয়েছিল।

বহু বছর আগের সেই সিনেমাগুলোর গান আজও মানুষ মনে রেখেছে। আনোয়ারা সিনেমাতেও আমরা জুটি হয়েছিলাম। তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি। মনের মতো বউ, জীবন থেকে নেয়াসহ আরও অনেক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছি। জীবন থেকে নেয়া সিনেমার শুটিংয়ের স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি।

এরপরতো রাজ্জাক একসময় নায়ক রাজ হয়ে গেলেন। কী চমৎকার সংলাপ বলতেন! ক্যামেরার সামনে তিনি একেবারে অন্য মানুষ হয়ে যেতেন। অভিনয়টা মন দিয়ে করতেন বলেই সাফল্য তার পিছু ছাড়েনি। সবশেষে বলব, রাজ্জাক ছিলেন একজন ভালো মনের মানুষ।

নায়ক রাজ রাজ্জাক শুধু একজন নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক। তার কথা বলে শেষ করা যাবে না। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন তাকে মনে পড়বে।

জীবনের প্রথম তার সঙ্গে অভিনয় করি আয়না সিনেমায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন মহসীন। এফডিসিতেই আমাদের শুটিং হয়েছিল। প্রথম শুটিংয়ের দিনটির কথা আজও ভুলিনি। রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে আমি ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। হাত-পা কাঁপছিল। তিনি সব বুঝতে পেরে শুটিং বন্ধ করে আমার সঙ্গে কথা বলেন, আমাকে সহজ করে দেন।

নতুন নায়িকা হিসেবে তার সেই সহযোগিতা আমাকে ভীষণ উৎসাহ দিয়েছিল। এরপর আর কোনো ভয় কাজ করেনি। আরাম করে শুটিং করেছি। রাজ্জাক ভাই ছিলেন এমনই উদার মনের মানুষ। নিজে একা বড় হতে চাননি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছেন।

আয়না সিনেমার পর তার সঙ্গে অসংখ্য কাজে যুক্ত হয়েছি। সবসময় বড় ভাইয়ের মতো ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। নায়ক হিসেবে তার তুলনা নেই, তিনি সত্যিই অতুলনীয়। তিনি সত্যিই নায়ক রাজ।

Related Articles

Latest Articles