31 C
Dhaka
Home Blog Page 5

১৬ দিনে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ৫ হাজার টন চাল

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩২টি চালানে মোট ৫ হাজার ৫ টন সেদ্ধ চাল দেশে এসেছে। গতকাল বুধবার চাল আমদানির সরকারি সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই পরিমাণ চাল ভারত থেকে বেনাপোলে প্রবেশ করে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে গত মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৬ কর্মদিবসে এসব চালানের চাল বন্দরে এসে পৌঁছায়। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মেসার্স হাজি মুসা করিম অ্যান্ড সন্স এবং কে বি এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব চাল এনেছে। 

বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৬ হাজার ১২৮ টন চাল আমদানি করা হয়। এরপর দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সরকার ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। আমদানির কাজ শেষ করার জন্য ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয় এবং এই সময়ের মধ্যেই আমদানিকৃত চাল দেশের বাজারে বাজারজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজি মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আবদুস সামাদ জানান, তারা ১৬ দিনে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪১টি ট্রাকে করে প্রায় ৫ হাজার ৫ টন মোটা চাল আমদানি করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি কেজি চালের আমদানি খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। এই চাল খোলাবাজারে প্রায় ৫১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রায়হাত হোসেন বলেন, দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে এই মোটা চাল এনেছে। চালের চালানগুলো যাতে বন্দর থেকে দ্রুত ছাড় করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এশিয়ান গেমসে জায়গা পেল প্যাডেল

দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা র‌্যাকেট খেলা প্যাডেলের জন্য বড় এক মাইলফলক এলো। চলতি বছর জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো পদক ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্যাডেলকে।

বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই খেলাটি অনেক তারকারও প্রিয়। টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ, ফুটবল সুপারস্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স ভার্স্টাপেন তিনজনই প্যাডেলের বড় ভক্ত হিসেবে পরিচিত।

চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়ান গেমস বিশ্বের অন্যতম বড় বহুখেলা আসর। সর্বশেষ ২০২৩ সালে চীনে আয়োজিত আসরে প্রায় ১২ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নেন, যা প্রতিযোগীর সংখ্যার দিক থেকে অলিম্পিকের চেয়েও বেশি।

লুসানভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল প্যাডেল ফেডারেশনের সভাপতি লুইজি কারারো এই সিদ্ধান্তকে খেলাটির জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

কারারো বলেন, ‘এটি আমাদের খেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এশিয়ান গেমস বিশ্বের অন্যতম বড় বহুখেলা প্রতিযোগিতা। সেখানে প্যাডেলকে পদক ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রমাণ করে এশিয়াজুড়ে এই খেলার দ্রুত বিকাশ এবং বিশ্বব্যাপী এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব।’

টেনিস ও স্কোয়াশের মিশ্রণে তৈরি প্যাডেল সাধারণত ডাবলসে খেলা হয়। এটি একটি ঘেরা কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়, যার গঠন অনেকটা টেনিস কোর্টের মতো।

এদিকে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া জানিয়েছে, ফুটবল ও টেবিল টেনিসের সমন্বয়ে তৈরি আরেকটি খেলা টেকবলে এবারের এশিয়ান গেমসে পদক ইভেন্ট হিসেবে থাকবে।

জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের এশিয়ান গেমস শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে পল কাপুরের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে কী ঘটছে, আমাদের নীতি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা কী—সেটি বোঝার জন্যই তারা এখানে এসেছেন।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন নওশাদ জমির, মাহবুবুর রহমান, নায়াব ইউসুফ ও নিপুণ রায় চৌধুরী।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের অত্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়ে এসেছে। যেহেতু একটি নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, তাই তাদের কর্মকর্তার আসাটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের যে পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেসব বিষয় নিয়ে তারা সার্বিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্যই এদেশে এসেছে।

মঈন খান বলেন, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক, সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি এবং বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংসদীয় বিষয় নিয়ে দলীয় কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের বিষয় নিয়ে সরাসরি আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সেটা হয়তো তারা বিরোধী দলের সঙ্গে করে থাকতে পারে। সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।

তিনটি ক্ষেত্রে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রথমত, আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক; দ্বিতীয়ত, আমাদের পররাষ্ট্র সম্পর্ক এবং তৃতীয়ত, আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি এবং আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জনগণের সমর্থনে একটি সরকার গঠন করেছি।

তিনি আরও বলেন, মানুষের যে কথা বলার স্বাধীনতা, মানুষের যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানুষের যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সে বিষয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে নীতি সেই নীতির পারস্পরিক সম্পর্কগুলো আমরা আলোচনায় এনেছি।

গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দেওয়া এক বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে মঈন খান বিস্তারিত কিছু বলেননি। তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতিতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে।

মঈন খান বলেন, সরকার হয়তো আপনাদের সেসব বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে।

বিজয়-রাশমিকার বিয়ের ভেন্যুর এক দিনের ভাড়া কত?

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গতকাল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

আরাবল্লী পর্বতমালার কোলে উদয়পুরের একায়া এলাকায় অবস্থিত আইটিসি মেমেন্টোস হোটেলে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে তারা বিয়ে করেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত বিলাসবহুল এই বিয়ের ভেন্যুটি আরাবল্লী পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত। চারপাশে সবুজে ঘেরা এই স্থান থেকে নির্মল হ্রদের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল এই হোটেলটি বেশ নিরিবিলি ও আড়ম্বরপূর্ণ।

হোটেলটিতে রয়েছে নানা ধরনের বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা, যেমন—ভ্যালি ভিউ ভিলা, লেক ভিউ ভিলা, প্রিমিয়াম ভিলা, আরাবল্লী সুইট, মেমেন্টোস সুইট, প্রেসিডেনশিয়াল সুইট এবং অত্যন্ত বিলাসবহুল গ্র্যান্ড প্রেসিডেনশিয়াল সুইট।

প্রতিটি কক্ষ এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেন আধুনিক আভিজাত্যের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয় থাকে।

এই হোটেলটিতে পাহাড়ঘেরা পরিবেশে ১১৭টি সুইট ও ভিলা রয়েছে, যেখানে অতিথিরা বিশ্রাম নিতে পারেন। এখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পদের খাবার পরিবেশন করা হয়।

এখানে পাঁচটি ডাইনিং স্পেস রয়েছে, যথাক্রমে মাল্টি-কুইজিন রেস্তোরাঁ ‘উদাই প্যাভিলিয়ন’, ভারতীয় খাবারের জন্য ‘কেবাবস অ্যান্ড কারিজ’, নিরামিষ বিলাসবহুল খাবারের জন্য ‘রয়্যাল ভেগা’, ‘দ্য রক বার’ নামে একটি ক্লাব এবং ‘আরাবল্লী লাউঞ্জ’ নামে একটি বার।

বিয়ের আয়োজনের জন্য এখানে ‘ম্যাজিক্যাল ফরেস্ট’ নামে একটি বিশেষ স্থান আছে। এছাড়া ‘ফ্র্যাঞ্জিপানি লন’-এ প্রায় তিন হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন করা সম্ভব।

 

এখানে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা সবার জন্য সম্ভব নয়। কারণ এই হোটেলটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

হোটেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ৪৫ বর্গমিটারের একটি ভিলা প্রতিদিনের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ৪৯৯ রুপি (ট্যাক্স ও অন্যান্য ফি ছাড়া)। এখানে সর্বোচ্চ চারজন থাকতে পারেন।

অন্যদিকে, ৮৫ বর্গমিটারের একটি সুইটের ভাড়া প্রতিদিন প্রায় ৭১ হাজার ৪৯৯ রুপি পর্যন্ত হতে পারে (ট্যাক্স ও অন্যান্য ফি ছাড়া)।

উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভাঙাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঁয়তারা?

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন—‘পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা আর নেই’। আরও জানালেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি হয়েছে’।

পাশাপাশি, আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পারে ‘বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার’ আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

একই অনুষ্ঠানে জার্মান নেতার মতো ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাখোঁও দীপ্তকণ্ঠে বললেন, ‘ইউরোপকে অবশ্যই ভূ-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে হবে’।

আরও বললেন, ‘ধৃষ্টতা দেখানোর এটাই সঠিক সময়। শক্তিশালী ইউরোপ গড়ার এটাই প্রকৃত সময়।’

তার মতে, ‘ইউরোপকে শিখতে হবে ভূ-রাজনৈতিক শক্তি হতে কী কী করতে হয়।’

গত ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসব তথ্য জানানোর পাশাপাশি আরও বলা হয়—মহাদেশীয় জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান দুই শক্তি জার্মানি ও ফ্রান্স। অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বার্লিন ও সামরিক শক্তি হিসেবে প্যারিস ২৭ দেশের এই জোটে তাদের প্রভাব বিস্তার করে আছে।

গত ২০ জানুয়ারি এই ইউরোপের সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যবস্থায় ‘ফাটল’ ধরার কথা বলে আলোচনায় এসেছিলেন ‘ইউরোপমুখী’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রবিমুখ’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সেই ভাষণে তিনি মধ্যমশক্তির দেশগুলোকে ‘জেগে ওঠা’র অনুরোধ করেছিলেন।

মার্ক কার্নির বক্তব্যের চার সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জার্মানির নেতা জানিয়ে দিলেন, পুরনো বিশ্বব্যবস্থার ‘মৃত্যু’ হয়েছে। একই সময়ে ফরাসি নেতা শোনালেন ইউরোপের ‘শক্তিশালী’ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা।

মনে রাখা দরকার যে—১৯৯৩ সালে নেদারল্যান্ডসের মাসট্রিখট শহরে ইইউ জোটের জন্ম হলেও এবং এই জোটের সদরদপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে হলেও প্যারিস-বার্লিনের মেলবন্ধন এই মহাদেশীয় ঐক্যের জন্য খুবই জরুরি।

প্রায় ৩৩ বছর ধরে ‘ঐক্যের উদাহরণ’ হিসেবে বিবেচিত ইইউকে এখন ‘আরও শক্তিশালী’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে মূলত ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ জন্যই। কেননা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মিত্র ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রায় আট দশক দায়িত্ব পালনের পর ইউরোপের নিরাপত্তা বিষয়টি ওয়াশিংটন ডিসি এখন ভিন্নভাবে দেখছে। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে, তারা সাহসী মিত্র চায়। ‘জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও প্রযুক্তিকে ভয় পায়’ এমন মিত্র চায় না হোয়াইট হাউস।

অভিবাসন নিয়ে শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিষ্টানদের শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার প্রতিবেশী কিউবা-বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নেতার মন্তব্য: ‘মুক্তবিশ্বের আশায় আমরা আমাদের সীমানা খুলে দিয়েছিলাম। সেই সুযোগে বন্যার পানির মতো হু হু করে অভিবাসীরা ঢুকে পড়েছে। অভিবাসীরা আমাদের সমাজের ঐক্য, সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা ও জনগণের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের আরও অনেক অভিবাসনবিরোধী নেতার মতো সে দেশের প্রধান কূটনীতিক ৫৪ বছর বয়সী রুবিও মনে করেন, অভিবাসন না ঠেকালে অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপের কয়েকটি দেশের জনসংখ্যার হার বদলে যাবে।

২০২৫ সালে নভেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপের অভিবাসী নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে। সে বছর ৫ ডিসেম্বর ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনের শিরোনাম বলা হয়—‘প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’: নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপের চরম ডানপন্থীদের প্রতি ট্রাম্পের খোলামেলা সমর্থন।

এতে আরও বলা হয়, মহাক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলছে যে আগামী দুই দশকের মধ্যে ইউরোপীয় ‘সভ্যতা মুছে’ যেতে পারে। অভিবাসনকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উন্নত মহাদেশটিকে ভিনদেশি অভিবাসীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য ইউরোপের ভেতর থেকে ‘প্রতিরোধ গড়ে তোলার’ আহ্বানও জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সই করা জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে আরও বলা হয়েছে—ইউরোপের অর্থনীতি দুর্বল। কিন্তু, এর প্রকৃত সমস্যা আরও গভীরে রয়ে গেছে।

দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদন বলছে, যে ‘উদার’ মানবিকতার ওপর ভর করে ইইউভুক্ত দেশগুলো একে অপরের ভূ-সীমানা খুলে দিয়েছে, সেই ইইউ-সদস্যদের রাজধানীগুলোয় অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থীরা দাপট দেখাচ্ছে। ইউরোপের রাজনৈতিক মঞ্চে শ্বেতাঙ্গ-জাতীয়তাবাদের ক্রমশ উত্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের ওভাল অফিস ‘ভীষণ আশাব্যঞ্জক’ হিসেবে দেখছে।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী বর্তমান ট্রাম্প সরকার ইউরোপের অভিবাসনবিরোধী দলগুলোকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে।

যেমন, জার্মানির অভিবাসনবিরোধী চরম জাতীয়তাবাদী দল ‘অলটারনেটিভ ফুর ডয়েচল্যান্ড’র (এএফডি) সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। এই রাজনৈতিক দলটিকে ‘নব্য নাৎসি’ বলে মনে করেন উদারপন্থীরা। কেননা, এই দলটির বিশ্বাস—বিদেশি অভিবাসীরা তাদের দেশ দখল করে নিচ্ছে। তারা উদারপন্থী ইউরোপের ধারণা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে নিজ দেশের জনগণের কাছে। পাচ্ছে জনপ্রিয়তাও।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল আলির (আয়েন) নেতা মারিন লো পা ভালো অবস্থানে আছেন।

এ ছাড়াও, ইইউভুক্ত—ইতালি, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, ফিনল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রে অভিবাসনবিরোধী উগ্র ডানপন্থীরা ক্ষমতায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চান এমন তালিকায় ইইউয়ের অন্যান্য দেশগুলোও আসুক। তিনি কখনো সরাসরি কখনো দূতদের মাধ্যমে ইইউবিরোধী উগ্র ডানপন্থীদের উত্থানকে শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টধর্মাম্বলীদের জন্য ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ হিসেবে তুলে ধরছেন।

অর্থাৎ, যূথবদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে ভাঙন ধরাতে চান ‘মার্কিন আধিপত্যবাদী’ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই তিনি সেসব দেশের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছেন, যাতে তারা মেগা বা ‘মেক ইউরোপ গ্রেট অ্যাগেইন’ স্লোগান তুলে জনগণের মন জয় করতে পারে। পাশাপাশি অনুগত থাকে ওয়াশিংটনের প্রতি।

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সংবাদ সাময়িকী ‘পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—‘ইউরোপের জাতীয়তাবাদীদের উৎসাহ দিতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

এতে বলা হয়—ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষতি করতে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ‘দেশপ্রেমিক ইউরোপীয় দলগুলোকে’ শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

আরও বলা হয়, ট্রাম্পের পরিকল্পনা হচ্ছে ইউরোপ মহাদেশের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের শক্তিশালী করার মাধ্যমে ‘ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব’ ফিরিয়ে আনা। তার পরিকল্পনা এখন বাস্তবের রূপ নিচ্ছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দ্য গার্ডিয়ানের অপর এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—‘অভিবাসীদের ওপর হামলা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের রাজনীতি বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ইউরোপের উগ্র-ডানপন্থিদের সহযোগিতা করছে।’

‘মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সারাহ বি রজারস হোয়াইট হাউসের পক্ষে ইউরোপীয় উদার গণতান্ত্রিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংঘাতের মুখ হিসেবে দেখা দিয়েছেন’ বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়—সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর বিরুদ্ধে ‘বাগযুদ্ধ’ বাড়িয়ে দিয়েছেন, এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সারাহ বি রজারস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মিত্র দেশগুলোয় চরম ডানপন্থী রাজনীতির প্রচার-প্রচারণা প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইউরোপের উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয় ‘মুখ’ হয়ে উঠছেন সারাহ। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাহ ইউরোপের উগ্র-ডানপন্থী নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি ইউরোপে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে জেল-জরিমানা দেওয়ার সমালোচনা করছেন।

এমনকি, তিনি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সমালোচকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর কাজ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সিএনএন জানায়—‘ইউরোপের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর বার্তা: বদলে যাও নয়তো ছুঁড়ে ফেলে দেব।’

প্রতিবেদন অনুসারে—২০২৫ সালে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স মিথ্যা দাবি করে বলেছিলেন যে ইউরোপে বাগ-স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে দমন করা হচ্ছে। সেখানকার সভ্যতা অবক্ষয়ের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও এসব তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অনেকের মত—চলতি বছর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে একে অপরের ‘পরিপূরক’ বললেও মূলত তিনি সেই ইউরোপকে দেখতে চান যে ইউরোপ তাদের কথা মতো চলবে। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের ‘সন্তান’ বলে অভিহিত করে করতালি পেলেও বিশ্লেষকদের মতে, রুবিও মূলত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ইউরোপকেই যুক্তরাষ্ট্রের কথা মতো চলতে হবে।

তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে তার মিত্র খুঁজে নেবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন এই মার্কিন কর্মকর্তা।

অনেকের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে ইউরোপের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের ক্ষমতায় আনার দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর উগ্রপন্থীদের ভাষ্য—ইউরোপে জোট গড়ে সাধারণ জনগণের স্বার্থ নষ্ট করা হয়েছে। জোট রক্ষার বিশাল খরচ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তারা জোটের চেয়ে নিজ নিজ দেশের উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জোট নয়, নিজেদের শক্তিশালী করুন’ বক্তব্যের সঙ্গে ইউরোপের উগ্রবাদীদের বক্তব্য বেশ মিলে যায়।

তাই প্রশ্ন জাগছে—উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দিয়ে কি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভাঙার পাঁয়তারা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

আইএসও ৯০০১:২০১৫ সনদ অর্জন করলো ‘এক্সপার্ট’

দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আজওয়া টেকের নিজস্ব ব্র্যান্ড এক্সপার্ট গুণমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য আইএসও ৯০০১:২০১৫ সনদ অর্জন করেছে। সনদ প্রদানের আগে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশনাল প্রক্রিয়া, গুণমানের মানদণ্ড এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ মূল্যায়ন করা হয়। এসব মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা যাচাই করা হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসও ৯০০১:২০১৫ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুণমান ব্যবস্থাপনা সনদ, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক ও প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এই সনদের আওতায় প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে গুণগত মান বজায় রাখা, প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

সনদ অনুযায়ী, আজওয়া টেকের কার্যক্রমের পরিধির মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ডিজাইন, ওইএম পণ্য উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং এবং খুচরা বিক্রয়। প্রতিষ্ঠানটি পণ্য উন্নয়ন থেকে শুরু করে উৎপাদন, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব মনসুর বলেন, এই সার্টিফিকেশন গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এর মাধ্যমে এক্সপার্ট ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও অ্যাকসেসরিজ ক্যাটাগরিতে আইএসও সনদ অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, এই সনদ অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য ও সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এক্সপার্ট ব্র্যান্ডের আওতায় স্মার্টওয়াচ, নেকব্যান্ড, স্পিকার, ওয়্যারলেস হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জারসহ বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাকসেসরিজ ও স্মার্ট ডিভাইস সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

১৫০ বছর আগে ডুবে যাওয়া স্টিমারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেড়শ বছরের পুরনো একটি বিলাসবহুল স্টিমারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে। ১৯ শতকের শেষ ভাগে ওই স্টিমারটি লেক মিশিগানে ডুবে যায়। 

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। 

শিপরেক ওয়ার্ল্ড একটি ভিন্ন ধরনের সংগঠন। তাদের মূল কাজ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ডুবে যাওয়া জাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা। 

সংগঠনটি শুক্রবার জানায়, ইলিনয়ের ‘জাহাজ শিকারী’ পল ইহর্ন লাক লা বেল নামের ঐতিহাসিক জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পান। ২০২২ সালের অক্টোবরে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের রেইসিন ও কেনোশার মাঝামাঝি জায়গায় এটি খুঁজে পান পল ও তার দলের সদস্যরা। এর অবস্থান উপকূল থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে। 

পল ইহর্ন বার্তা সংস্থা এপিকে রোববার টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দেন। 

খোঁজ পাওয়ার তিন বছরেরও বেশি সময় পর কেন এই ঘোষণা এলো, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি। জানান, তার দল জাহাজের একটি ত্রিমাত্রিক ভিডিও মডেলসহ ঘোষণা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বৈরি আবহাওয়া ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে ঐ ভিডিও তৈরিতে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব দেখা দেয়। গত গ্রীষ্ম পর্যন্ত বারবার তারা পানির গভীরে থাকা ধ্বংসাবশেষের কাছে যেতে বাধ্য হন।

১৫ বছর বয়স থেকে জাহাজ উদ্ধারের কাজ করছেন পল ইহর্ন (৮০)। তিনি জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে লাক লা বেলে’র অবস্থান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। এ বিষয়ে ২০২২ সালে অপর এক জাহাজ শিকারী রস রিচার্ডসনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান তিনি। এরপর লেক মিশিগানে সাইড-স্ক্যান সোনার দিয়ে দুই ঘণ্টা খোঁজ করেই জাহাজটি চিহ্নিত করেন তিনি। 

ইহর্ন বলেন, ‘এটা একটা খেলার মতো। ধাঁধার সমাধান খোঁজার মতো। কখনো কখনো ধাঁধার উত্তর পেতে খুব বেশি সূত্র পাবেন না আপনি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমার হাতে থাকা সূত্রটি কাজে লেগেছে এবং আমরা প্রায় তাৎক্ষণিক ভাবে এর খোঁজ পাই।’ 

তবে ওই ‘সূত্র’ নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি ইহর্ন। 

শিপরেক ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, লাক লা বেল স্টিমারটি ১৮৬৪ সালে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে নির্মাণ করা হয়। ২১৭ ফুট (৬৬ মিটার) দীর্ঘ স্টিমারটি ক্লিভল্যান্ড থেকে লেক সুপেরিয়রে যাত্রী পারাপারের কাজে নিয়োজিত ছিল। ১৮৬৬ সালে সেইন্ট ক্লেয়ার নদীতে অন্য একটি নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর স্টিমারটি ডুবে যায়। ১৮৬৯ সালে উদ্ধার করে আবারও একে চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়।  

১৮৭২ সালের ১৩ অক্টোবর ঝড়ো বাতাসপূর্ণ এক রাতে মিলওয়াকি ছেড়ে মিশিগানের গ্র্যান্ড হ্যাভেনের উদ্দেশে রওনা হয় লাক লা বেল। বিলাসবহুল স্টিমারটিতে ৫৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মালামাল হিসেবে ছিল বার্লি, শূকরের মাংস, ময়দা ও হুইস্কি। যাত্রা শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্টিমারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি ঢুকতে শুরু করে। 

বিপদ বুঝতে পেরে লাক লা বেলের ক্যাপ্টেন স্টিমারের গতিপথ বদলে মিলওয়াকির দিকে আগাতে শুরু করেন। কিন্তু একের পর এক বড় বড় ঢেউ স্টিমারে আছড়ে পড়তে থাকে। এতে বয়লারের আগুন নিভে যায়। ঝড় কবলিত নৌযানটি দক্ষিণ দিকে আগাতে থাকে। 

ভোর ৫টার দিকে ক্যাপ্টেন লাইফবোটে যাত্রীদের ওঠানোর উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের মধ্যে স্টিমারটি ডুবে যায়। 

ফেরার পথে একটি লাইফবোট ডুবে আট আরোহী প্রাণ হারান। তবে বাকি লাইফবোটগুলো রেইসিন ও কেনোশার মাঝামাঝি উইসকনসিনের উপকূলে নিরাপদে ভিড়তে সক্ষম হয়। 

খুঁজে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করে বাইরের অংশটিকে কুয়াজ্ঞা ঝিনুক দিয়ে আচ্ছাদিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর উপরের কেবিনটি ধ্বংস হয়েছে। ইহর্ন জানান, হাল এবং ওক কাঠ দিয়ে নির্মিত ভেতরের অংশগুলো অক্ষত আছে। 

উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, উইসকনসিনের লেকগুলোতে ছয় থেকে ১০ হাজার নৌযান ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর বেশিরভাগই অনাবিষ্কৃত। 

লাক লা বেলের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার আগে আরও ১৪টি নৌযানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন পল ইহর্ন।

 

৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে, যেখানে ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। প্রশিক্ষণ শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি নিজে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প তুলে ধরেন।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ৩৭৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে।

১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে ষষ্ঠ ব্যাচের প্রশিক্ষণে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবরা এই সুযোগ পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করেছে।

এখন পর্যন্ত ৫টি পর্যায়ে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকা। উপার্জনে সহায়তা করতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে নির্বাচন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

মেডিকেল কলেজে আর্থিক কেলেঙ্কারি, সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (আইএমসিএইচ) বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই শিক্ষক ও এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ এবং বেনামী ইমেইলে অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে, কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সাবেক প্রধান (চলতি দায়িত্ব) ইউ. কে. ফাতেমা খান মজলিস দায়িত্ব পালনকালে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিলেন। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর অডিট পরিচালনার মাধ্যমে ল্যাবরেটরির ‘Maglumi 2000 Plus’ মেশিনের হিসেবে গরমিল পাওয়া যায়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মেয়াদে ল্যাবরেটরিতে হিসাব বহির্ভূত ৫৪৬৫টি টেস্ট করানো হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪৫,৩৮,৬১৫ টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেনের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি বেনামী ইমেইল (kingkhanbank1@gmail.com) থেকে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানায় ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য পাঠিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগের তীর সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কাজল আক্তার এবং শিক্ষার্থী দামিক শাওকাত মালিক-এর দিকে। ডক্টর কাজলের বিরুদ্ধে কাশ্মীরি ছাত্রের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে । তিনি তার বাসায় ছাত্রছাত্রীদের কে নিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দামিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এক বছর বহিষ্কৃত ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি এবং ডাঃ কাজল আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক পোস্ট ও বিকৃত ছবি ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে গত ৯ আগস্ট ২০২৫-এ ডাঃ কাজল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন ও এইচআর) মোঃ ইমরুল কায়েস টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি বলেন, কলেজ ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। আমরা অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন বা অর্থ আত্মসাৎকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গাজীপুরে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে উম্মেল খায়ের ফাতেমা মজলিশ (৪৬) নামে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের এক সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪ এ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সিনিয়র ম্যানেজার হিসাব বিভাগ এ এফ এম ফরিদ মামলাটি দাখিল করেন।

সুপার এইট ডাইজেস্ট: পাওয়ারপ্লের রাজাদের পতন এবং স্পিন জাদুকরদের পুনরুত্থান

প্রথমেই একটু প্রোভোকেটিভ কথা বলে শুরু করি—২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যদি ছিল ‘বিনোদন’, তবে সুপার এইট হলো ‘নির্মম বাস্তবতা’। গতকালকের ম্যাচে আমরা দেখেছি কীভাবে কাগিসো রাবাদার গতির সামনে কুইন্টন ডি ককের মতো ব্যাটাররা হিমশিম খাচ্ছেন, আবার অন্যদিকে অভিষেক শর্মার ব্যাট কীভাবে ডেটাকে ভুল প্রমাণ করে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তান্ডব চালাচ্ছে।

১. ব্যাটার বনাম বোলার: সেই মহাকাব্যিক লড়াই

গতকালকের সবচেয়ে আলোচিত লড়াই ছিল ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। আমাদের তালিকার ৩ নম্বর ব্যাটার এইডেন মার্করাম মুখোমুখি হয়েছিলেন ৩ নম্বর বোলার বরুণ চক্রবর্তীর।

মার্করাম যখন তার ট্রেডমার্ক কভার ড্রাইভ দিয়ে শুরু করেছিলেন, মনে হয়েছিল তিনি আজ বড় স্কোর করবেন। কিন্তু বরুণ চক্রবর্তীর একটি গুগলি, যা তিনি হাত থেকে পড়ার আগে পড়ার উপায় রাখেননি, সেটি মার্করামের ডিফেন্স ভেঙে স্টাম্প উড়িয়ে দেয়।

“এটিই হলো আধুনিক টি-টোয়েন্টি,” মন্তব্য করেছেন রবি শাস্ত্রী। “আপনি যতই স্ট্রাইক রেট নিয়ে ভাবেন না কেন, বরুণের মতো মিস্ট্রি স্পিনারদের সামনে আপনার ডেটা কাজ করবে না যদি না আপনার পায়ের কাজ নিখুঁত হয়।”

২. পরিসংখ্যানের আয়নায় সুপার এইট-এর প্রথম দিন (হেড-টু-হেড)

ব্যাটার (র‍্যাঙ্ক) বোলার (র‍্যাঙ্ক) ফলাফল ইমপ্যাক্ট নোট
আভিষেক শর্মা (৬) মার্কো জানসেন (২) অভিষেক ৬৪ (৩০) জানসেনের গতিকে কাজে লাগিয়ে অভিষেক ৩টি ছক্কা মারেন।
সূর্যকুমার যাদব (৫) কাগিসো রাবাদা (৯) সূর্য ৪২ (২২) রাবাদার ইয়র্কার সূর্য স্কুপ করে গ্যালারিতে পাঠান।
কুইন্টন ডি কক (৯) জাসপ্রিত বুমরাহ (৬) ডি কক ১৫ (১৮) বুমরাহর নিখুঁত ডট বলে ডি কক চাপে পড়ে উইকেট হারান।
নিকোলাস পুরান (১০) আদিল রশিদ (১০) পুরান ২০ (১৫) রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে পুরান ক্যাচ তুলে দেন।

৩. পাল্লেকেলের সেই ‘এপিক’ নাটক: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে ইংল্যান্ডের ল্যাবরেটরি ক্রিকেট মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাকিস্তানের চিরাচরিত ‘অ্যানার্কি’ বা বিশৃঙ্খলার কাছে। আমাদের তালিকার ১ নম্বর ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান মুখোমুখি হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদের

ফারহান যেভাবে রশিদকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে ছক্কা মারছিলেন, তাতে মনে হয়েছে ইংল্যান্ডের সব ডেটা অ্যানালিস্টদের চাকরি আজ ঝুঁকির মুখে। ইংল্যান্ড যখন মনে করেছিল তারা গাণিতিকভাবে ম্যাচটি জিতে গেছে, তখনই শাহীন আফ্রিদির একটি ইনসুইং ইয়র্কার ফিল সল্টের স্টাম্প উপড়ে ফেলে সব হিসাব পাল্টে দেয়।

৪. ফ্যান এনগেজমেন্ট এবং ‘বিয়ন্ড দ্য ফিল্ড’ উত্তেজনা

সুপার এইট পর্বে এসে আমরা দেখছি যে সাধারণ ভক্তরা এখন বিশেষজ্ঞের চেয়েও নিখুঁতভাবে ম্যাচ রিড করতে পারছেন। এর বড় কারণ হলো ডিজিটাল প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মগুলোর সহজলভ্যতা। ভক্তরা এখন শুধু স্কোর দেখে না, তারা ‘উইনিং প্রোবাবিলিটি’ আর ‘ব্যাটার ম্যাচ-আপ’ মাথায় রেখে নিজেদের মতামত শেয়ার করছে।

এই ধরণের হাই-স্টেক্স ম্যাচে যারা নিজেদের ক্রিকেটীয় জ্ঞানের প্রমাণ দিতে চান, তাদের জন্য এপিক জগতটি এখন এক অনিবার্য অংশ। আপনি যখন দেখছেন বরুণ চক্রবর্তী বোলিংয়ে আসছেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ‘ইকোনমি রেট’ আর ‘উইকেট টেকিং অ্যাবিলিটি’-র হিসাব কষতে শুরু করে। এই উত্তেজনাকর মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে আপনার প্রয়োজন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিটি ডেটা রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করা হয়। যারা মনে করেন অভিষেক শর্মা পাওয়ারপ্লে-তে জানসেনকে আক্রমণ করবেন, তাদের জন্য এই ডিজিটাল পোর্টালটি কেবল একটি প্রেডিকশন টুল নয়, বরং এটি তাদের ট্যাকটিক্যাল মাইন্ডসেটের একটি অংশ।

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই যতটুকুন রোমাঞ্চকর, তার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে ভক্তদের এই ডিজিটাল অংশগ্রহণ। কারণ প্রতিটি ছক্কা আর প্রতিটি উইকেট এখন কেবল একটি পয়েন্ট নয়, বরং এটি কারও সঠিক প্রেডিকশনের বিজয়।

৫. চূড়ান্ত প্রেডিকশন: অরেঞ্জ ক্যাপ ও পার্পল ক্যাপ কার মাথায়?

প্রথম দিনের পারফরম্যান্সের পর আমার প্রোভোকেটিভ বা বিতর্কিত প্রেডিকশন অপরিবর্তিত থাকছে:

  • সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: সূর্যকুমার যাদব। কেন? কারণ সুপার এইট-এর বাকি ম্যাচগুলো হবে মুম্বাই এবং আহমেদাবাদে, যা সূর্যের পছন্দের ব্যাটিং প্যারাডাইস।
  • সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী: জাসপ্রিত বুমরাহ। কারণ চাপের মুখে বুমরাহ্-র উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং ইকোনমি তাকে তালিকার শীর্ষে নিয়ে যাবেই।