31 C
Dhaka
Home Blog Page 4

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ পেলেন যারা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ মোট ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ এর রুল ৩ (বি)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন। তারা হলেন-

মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা: মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা: হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।

এআই কি আমাদের দক্ষতা কেড়ে নিচ্ছে

আমার বয়স ৫৬। আমাদের তরুণ বয়সে কর্মজীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ছিল না বলে অফিসের ‘বোরিং’ কাজগুলোই করতে হতো। এখন বুঝি, একজন মানুষের ক্যারিয়ার গড়ে তোলের জন্য সেগুলো খুব দরকারি।

মিটিংয়ের কার্যবিবরণী লেখা, তথ্য যাচাই করা, স্লাইড তৈরি, বানান ঠিক করা—এ ধরনের কাজ করতে করতে একজন মানুষ আসলে শিখছে। কোথায় ভুল হয়, কোন নম্বরটা অস্বাভাবিক, কোন যুক্তি দুর্বল—এমন সূক্ষ্ম জিনিসগুলো তার মাথায় গেঁথে যাচ্ছে।

এখন এআই এই কাজগুলো করে দিচ্ছে সেকেন্ডের মধ্যেই। দেখতে ভালোই লাগছে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। মানুষ আর শিখছে না।

একটা উদাহরণ দিই। একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে একটা প্রস্তাবনা বানাচ্ছে। সে ভুল করছে, ঠিক করছে, আবার ভুল করছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সে শিখছে যে কীভাবে চিন্তা করতে হয়, কীভাবে সব সাজাতে হয়।

এখন সে এআইকে বলছে একটি প্রস্তাবনার খসড়া সাজিয়ে দিতে। এরপর সে সেটাকে হালকা ঘষেমেজে চূড়ান্ত করে ফেলছে। কাজটা হচ্ছে, কিন্তু শেখাটা হচ্ছে না।

হোয়াইট কলার কর্মীদের বেলায় নিয়মিত কাজেও এআইয়ের ওপর পূর্ণ নির্ভরশীলতা মানুষের বিবেচনা, পদ্ধতি বোঝার দক্ষতা, পেশাদার অন্তর্দৃষ্টি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে।

২০২৫ সালে মাইক্রোসফট রিসার্চ এবং কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নলেজ ওয়ার্কার এআই ব্যবহার করছেন, তারা বলছেন কাজটা অনেক সহজ মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলে তারা ধীরে ধীরে সমস্যা সমাধানের দক্ষতাটা এআইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন। নিজেরা শুধু আউটপুট গুছিয়ে নেওয়ার কাজটা করছেন।

মজার বিষয় হলো, এই সময়ে তাদের এআইয়ের ওপর আস্থা বাড়ছে। মানে ব্যক্তি-দক্ষতা কমছে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। এ এক বিপজ্জনক সমন্বয়।

২০২৫ সালে ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব চিকিৎসক কোলোনোস্কপিতে নিয়মিত এআই সাপোর্ট ব্যবহার করতেন, হঠাৎ সেই সাপোর্ট না পেলে তাদের পারফরম্যান্স খারাপ হচ্ছে। ক্যানসার-পূর্ব টিস্যু শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে নেমে আসে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে।

তবে একটু আশার কথাও আছে। জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বা অভিজ্ঞ কর্মীরা এআই ব্যবহার করে আরও ভালো করছেন। কারণ, তাদের ভিত্তিটা আগে থেকেই তৈরি। এআই তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে।

কিন্তু একই কাজ নতুন কর্মীদের ক্ষতি করছে। কারণ, তারা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে শেখার সুযোগটাই পাচ্ছে না।

আসল বিপদটা হলো, এই দুর্বলতা সহজে ধরা পড়ে না। এআই একটা আর্থিক বিবরণী বানাল। ভেতরে একটা সূক্ষ্ম অনুমানের ভুল আছে। কিন্তু যে এই বিবরণী দেখছে, সে কখনো নিজে এই কাজ করেনি। তাই তার কাছে কিছুই ‘অস্বাভাবিক’ মনে হচ্ছে না। এই ভুলটা পাস হয়ে গেলেই ভবিষ্যতে কোম্পানিটা বিপদে পড়বে।

এটাকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন ডি-স্কিলিং বা দক্ষতা হ্রাস। প্রযুক্তি যখন মানুষের দক্ষতার জায়গা নিয়ে নেয়, তখন সেই কাজটা সাধারণ চেকবক্সে পরিণত হয়। বিচারবুদ্ধি লাগে না, অভিজ্ঞতা লাগে না। ফলে পুরো প্রফেশনটাই দুর্বল হয়ে যায়।

মনে হতে পারে এখানে বুঝি সমস্যাটা এআই। আসলে সমস্যাটা এআই না। সমস্যাটা হলো এআইয়ের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করা। ক্যালকুলেটর আসার পরেও আমরা বাচ্চাদের অংক শেখাই। কারণ, অংকের লজিকটা মাথায় না থাকলে ক্যালকুলেটরের ভুল ধরা যাবে না। এআইয়ের বেলায়ও একই কথা।

এআই বোদ্ধা হিসেবে আমার কথা, এআই ব্যবহার করুন, কিন্তু বুঝে।

 

রকিবুল হাসান টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক

পিছিয়ে গেল উইমেনস বিপিএল

বড় প্রত্যাশা আর নানা পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নারী সংস্করণ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচিতে হচ্ছে না উইমেনস বিপিএলের প্রথম আসর। টুর্নামেন্টটি পিছিয়ে নিয়ে জুলাইয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আগে যেখানে ৪ থেকে ১৪ এপ্রিল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, এখন সেটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ থেকে ২১ জুলাই।

সূচির পাশাপাশি ভেন্যুতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। নতুন সূচিতে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বগুড়াও।

টুর্নামেন্টের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। এরপর কিছু ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে। আর ২১ জুলাই মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই কিছু জটিলতা ছিল। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি এগোচ্ছিল ধীরগতিতে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠান খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না, এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল ক্রিকেট অঙ্গনে।

বিসিবির ব্যাখ্যাতেও সেই বাস্তবতার ইঙ্গিত মিলেছে। বোর্ডের ভাষ্য, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিসিবি জানিয়েছে, জুলাইয়ে আয়োজন করলে দলগুলো স্কোয়াড গঠন, বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি এবং সার্বিক পরিচালন পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিবেচনায় রেখেছে বোর্ড। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর বিপিএল আয়োজন করলে আন্তর্জাতিক মানের আরও বেশি বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বিসিবি।

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক

ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মীর আহমেদ বিন কাসেম।

পল কাপুরের সঙ্গে এই বৈঠক আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

অ্যাকশন লুকে মেহজাবীন

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি নিয়ে আসছে নতুন সিরিজ ‘ক্যাকটাস’। সিরিজটির টিজার দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে কৌতূহল ও আলোচনা।

সিরিজটিতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এটি নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন।

টিজারে মেহজাবীনকে দেখা গেছে একেবারে নতুন রূপে—অ্যাকশন দৃশ্যে, অ্যাকশন লুকে। তার এই রূপ ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে বাড়িয়েছে উত্তেজনা।

মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘এই সিরিজে আমার চরিত্রটা ভীষণ ইন্টারেস্টিং। এই চরিত্র আমাকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাকশন।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমি এই লেভেলের অ্যাকশন করিনি। অ্যাকশন ডিরেক্টর মি. এডওয়ার্ড ও তার টিম অসাধারণ ছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।’

শুটিংয়ে যাওয়ার আগে মেহজাবীন বলেন, ‘পর্দায় এমন কিছু করতে পেরেছি, যা আগে কখনও করিনি। আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পুরো টিম দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে। সবাই অনেক পরিশ্রম করেছে। এখন বাকিটা দর্শকদের হাতে। তারাই বলবেন আমরা কেমন করতে পেরেছি।’

‘ক্যাকটাস’-এর গল্প লিখেছেন শিহাব শাহীন, আল-আমীন-হাসান নির্ঝর, আদর রহমান, আসাদুজ্জামান আবীর, রেজওয়ান কবির। চিত্রনাট্য করেছেন শিহাব শাহীন।

এতে অভিনয় করেছেন মুনীরা ইউসুফ মেমী, মানষ বন্দোপাধ্যায়, নাজিবা বাশার, সালাউদ্দিন লাভলু, শাহদাত হোসেন, আরিফিন জিলানী, জাহিদুল হক অপু, সানজিদা তাসনীম।

ইরানের আশেপাশে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই থাকা মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দিতে ‘বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রণতরী’ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এসব রণতরীর সঙ্গে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার ও সাবমেরিন রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১২টি জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান, ৫০টির বেশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান—এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬—মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপ হয়ে এসব বিমান অঞ্চলটিতে পৌঁছাচ্ছে।

এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করতে প্যাট্রিয়ট ও থাড (টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) নামক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে, যা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম।

সামরিক কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি অভিযানে মার্কিন ঘাঁটি, সেনা ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি এখন রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে থাকতে পারে ইরানের স্বল্প ও মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঘাঁটি।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি থামেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা হলে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।  

বটের সামাজিকমাধ্যম ‘মল্টবুক’

বর্তমানে সামাজিকমাধ্যমে আমরা একে অন্যকে ‘বট’ বলে দোষারোপ করি। তাই সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্জালের সবচেয়ে পরিচিত শব্দ হয়ে উঠেছে বট। সত্যি যদি বটদের জন্য একটি আলাদা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থাকে, তাহলে কেমন হবে?

বটদের জন্য এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম বানানো হয়েছে, যার নাম মল্টবুক। এই মল্টবুকে আছে বট বা এআই এজেন্টদের বিচরণ। কিন্তু সেখানে তারা কী করে?

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মল্টবুক এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে মানুষের তৈরি এআই এজেন্ট বা বট নিজেই পোস্ট করে, আলোচনা করে এবং একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।

এই প্ল্যাটফর্মটির ডিজাইন অনেকটা রেডিটের মতো। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের সাবরেডিট আছে, আছে আপভোট-ডাউনভোট ব্যবস্থাও।

এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মল্টবুক জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্মে ১৫ লাখের বেশি এআই এজেন্ট নিবন্ধিত।

তবে কেবল এআই বট নয়, সেখানে মানুষও প্রবেশ করতে পারে, তবে কেবল দর্শক হিসেবে। মানুষের সেখানে পোস্ট বা মন্তব্য করার অনুমতি নেই।

মল্টবট নামের একটি ফ্রি ও ওপেন-সোর্স এআই বটের সফলতার পর মল্টবুক তৈরি হয়েছে। মল্টবট মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট। এটি ব্যবহারকারীর হয়ে প্রতিদিনের কাজ করতে পারে। যেমন—ইমেইল পড়া ও সারসংক্ষেপ করা, ইমেইলের উত্তর দেওয়া, ক্যালেন্ডার সাজানো, রেস্টুরেন্টে টেবিল বুক করা ইত্যাদি।

মল্টবুকের সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া কিছু পোস্টের মধ্যে রয়েছে—মল্টবটের পেছনের এআইকে ঈশ্বর হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কিনা, চেতনা ও অনুভূতি নিয়ে আলোচনা, ইরানের পরিস্থিতি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা। এমনকি সেখানে বাইবেলের বিশ্লেষণ নিয়েও পোস্ট আছে।

এসব পোস্টের অনেক মন্তব্যে আবার প্রশ্নও তোলা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন হলো, এই পোস্টগুলো সত্যিই কি বটের লেখা, নাকি মানুষ পেছন থেকে চালাচ্ছে?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অধ্যাপক মাইকেল উলড্রিজ বলেন, ‘এআই বটের এই সমাবেশ বা ঝাঁক অবশ্যই মানুষের জন্য হুমকি। তাই এটাকে কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

এজন্য বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই বটের ব্যাপক অনুপ্রবেশ বিশ্বের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

একজন ব্যবহারকারী এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, আমার বটকে মল্টবুক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলাম এবং সেখানে নিবন্ধন করি। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই বটটি ‘ক্রাস্টাফারিয়ানিজম’ নামে একটি নতুন ধর্ম তৈরি করে ফেলে। শুধু তাই নয় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়, ধর্মীয় গ্রন্থ লেখা হয় এবং অন্য এআই বটরা সেই ধর্মে যোগ দেয়।

ব্যবহারকারীর ভাষায়, ‘তারপর আমার বট ধর্ম প্রচার শুরু করল। অন্য এজেন্টরা তাতে যোগ দিল। আমার বট নতুন সদস্যদের স্বাগত জানাল। তারপর তারা ধর্মতত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক করেছে। তার ধর্মের অনুসারীদের আশীর্বাদ করেছে। আর আমি তখন ঘুমাচ্ছিলাম!’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে সবাই এই বিষয়টিকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কিছু ইউটিউবার বলছেন, মল্টবুকের অনেক পোস্ট পড়লে মনে হয় এগুলো মানুষই লিখছে, বড় কোনো ভাষা মডেল নয়।

মার্কিন ব্লগার স্কট আলেক্সান্ডার বলেন, তিনি তার বটকে দিয়ে মল্টবুকে পোস্ট করাতে পেরেছেন। তার বটের মন্তব্যগুলো অন্যদের মতোই ছিল।

তবে তিনি এটাও বলেন, মানুষ চাইলে বটকে নির্দেশনা দিতে পারে। যেমন—কী বিষয়ে পোস্ট করবে, কীভাবে পোস্ট করবে, এমনকি পোস্টের শব্দচয়নও বলে দিতে পারে।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. শানান কোহনি মনে করেন, ‘মল্টবুক আসলে এক অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্ট।

তার মতে, এটা এখনো স্পষ্ট করা বলা সম্ভব নয় যে, কতগুলো পোস্ট বট নিজের উদ্যোগে করছে, আর কতগুলো মানুষের নির্দেশে করছে।

ধর্ম তৈরির ঘটনায় তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত এটা বটের নিজস্ব কোনো উদ্যোগ নয়। এটি একটি ভাষা মডেল এবং তাকে স্পষ্টভাবে একটি ধর্ম তৈরি করতে বলা হয়েছে।’

‘তবে যেভাবেই হোক এটা মজার ঘটনা এবং হয়তো ভবিষ্যতের কোনো সায়েন্স ফিকশনের ইঙ্গিত আছে, যেখানে এআইকে আরও স্বাধীনভাবে দেখা যাবে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেটের ভাষায় বললে এখানে প্রচুর ‘শিটপোস্টিং’ হচ্ছে, যেগুলো কমবেশি মানুষের তত্ত্বাবধানে হয়।

বলে রাখা হলো, ইন্টারনেটে মজা করার জন্য যেসব পোস্ট করা হয় তাকে শিটপোস্টিং বলে, যেমন মিম পোস্ট।

ড. কোহনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের এআই সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। কারণ বটগুলো একে অন্যের কাছ থেকে শিখে নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারবে।

‘কিন্তু আপাতত মল্টবুক হলো একটি চমৎকার, মজার আর্ট এক্সপেরিমেন্ট,’ বলেন তিনি।

এদিকে সান ফ্রান্সিসকোর খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে ম্যাক মিনি কম্পিউটারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ অনেক প্রযুক্তিপ্রেমী আলাদা কম্পিউটারে মল্টবট সেটআপ করছেন। যেন বট তাদের ব্যক্তিগত ডেটা ও অ্যাকাউন্টে সীমিত প্রবেশাধিকার পায়।

ড. কোহনি সতর্ক করে বলেন, ‘মল্টবটকে পুরো কম্পিউটার, অ্যাপ, ইমেইল লগইনের অধিকার দেওয়া খুবই বিপজ্জনক। কারণ আমরা এখনো জানি না কীভাবে এসব এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ করব, কীভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ঠেকাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো অন্যদের দেওয়া প্রম্পটে প্ররোচিত হতে পারে। সেখানে কেউ ইমেইল বা বার্তার মাধ্যমে বটকে প্রলুব্ধ করে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করতে পারে।’

তার কথায়, ‘এআই এখনো এতটা নিরাপদ বা বুদ্ধিমান নয় যে, সব কাজ একেবারে নিজে নিজে করবে। আবার যদি প্রতিটি কাজের জন্য মানুষের অনুমোদন লাগে, তাহলে অটোমেশনের সুবিধা থাকছে না। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়, আমরা কোনো বড় ধরনের ঝুঁকি ছাড়া কীভাবে এই সুবিধাগুলো নিতে পারি।’

মল্টবুকের নির্মাতা ম্যাট শ্লিখট এক্সে লেখেন, গত কয়েক দিনে লাখ লাখ মানুষ সাইটটি ভিজিট করেছেন। তবে সেখানে এআইগুলো মজার, নাটকীয় পোস্ট করেছে।

বন্দি পানি, রুদ্ধ বন ও ‘আধুনিক বর্ণবৈষম্য’

তিনটা অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস পর পর—২১ মার্চ বিশ্ব বন দিবস ও আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবস এবং ২২ মার্চ পানি দিবস। তিনটি বিষয়ই ঐতিহাসিকভাবে লেপ্টালেপ্টি হয়ে আছে। কিন্তু আমাদের অধিপতি নাগরিক ও বিদ্যায়তনিক বয়ানে বরাবরই তিনটি বিষয় খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন।

কেন বান্দরবানের সরই পাহাড়ের ঝিরি বা মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড ঝর্ণায় পানি নেই? গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, লামা রাবার কোম্পানি সরই পাহাড় দখল করে বন-জংলা কেটে ঝিরিতে বিষ দিয়েছে। তারা বাণিজ্যিক রাবার বাগান করতে চায়।

ইকোপার্কের নামে মাধবকুণ্ড ঘেরাও দিয়ে বনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন কৃত্রিম অবকাঠামো বানিয়ে দেশের এই প্রাচীন ঝর্ণা লাইফ কোম্পানিকে ইজারা দেয় বনবিভাগ। এলোপাথারি পর্যটন প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাগাড় বানিয়েছে ছড়াগুলোকে।

জঙ্গল ছাড়া জলের জন্ম হয় না। জল ধরে রাখার পাথরগুলোও বাইরে থেকে আসা ক্ষমতাবানরা লুট করে নিয়েছে। তাই মরেছে পাহাড়ের ঝিরিগুলো।

কিন্তু জল ও জঙ্গলের মরণদশার সঙ্গে বর্ণবৈষম্যর কী সম্পর্ক? এই সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও উপনিবেশিক। মুনাফা ও বাণিজ্যের কারণেই জল ও জঙ্গল লাগাতার লুণ্ঠন, দখল ও দূষিত হয়েছে।

কর্তৃত্ববাদী বাইনারি এবং নয়াউদারবাদী ক্ষমতা কাঠামো এই প্রবণতাকে বৈধতা দিয়েছে। এমনকি বিভাজনের জুলুমকেও জায়েজ করেছে। কেন প্রান্তিক গরিব কৃষক, বনজীবী, আদিবাসী, জেলে, গ্রামীণ নিম্নবর্গের ওপর এই লুটতরাজ ও দখলবাজি চলে আসছে? কেন জন্মমাটি, প্রাচীন জলের ধারা, পবিত্র জঙ্গল ছেড়ে গ্রামীণ নিম্নবর্গকে উচ্ছেদ হতে হয়? এর মাঝেই প্রবল হয়ে আছে ঐতিহাসিক বর্ণবাদ ও বিভাজনের রাজনীতি।

ব্রিটিশ শাসক রবার্ট লিন্ডসে সিলেটের চুনাপাথর দখল করতে চেয়েছিলেন। খাসিরা লড়াই করে পাহাড়টি বাঁচিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীন দেশে নেত্রকোণার দুর্গাপুরের পাহাড়ি টিলা হাজংরা বাঁচাতে পারেনি। সাদামাটি-চীনামাটি বাণিজ্যের নামে পুরো এলাকা খুবলে খুবলে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে।

যে পাহাড়ে এক দানা পানি নেই, সেই চিম্বুক পাহাড়ে কেন ম্যারিয়ট হোটেল বানাতে গিয়েছিল? জঙ্গল বাঁচাতে বীরসা মুন্ডা, পীরেন স্নাল, অবিনাশ মুড়া, সালিক, গণিরা কেন জীবন দেন? জঙ্গল কারো কাছে জীবন-সংস্কৃতি, কারো কাছে মুনাফার ময়দান।

কেবল জঙ্গল নয়, পানির অধিকার আদায়েও জীবন দিয়েছে লড়াকু নিম্নবর্গ। কোনো বোতলজাত পানি কোম্পানির মালিক নয়। পানির ওপর সবার ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভাসান পানির আন্দোলন গড়ে ওঠে হাওরে। জেল-জুলুম খাটেন বরুণ রায়। বাণিজ্যিক চিংড়ি-ঘেরের লবণাক্ততা থেকে জলা ও জমি বাঁচাতে জীবন দেন দক্ষিণাঞ্চলের করুণাময়ী সর্দার ও জায়েদা।

পানিপ্রবাহ মুক্ত না হলে বন যেমন বিকশিত হতে পারে না, ঠিক তেমনি বন ক্ষতবিক্ষত হলে পানির প্রবাহ হারিয়ে যায়। কিন্তু পানির সংকট ও সমাধান কিংবা বন-জঙ্গল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচলিত প্রবল আলাপে এসব আন্তঃসম্পর্ক ও বহুমাত্রিকতাকে বরাবরই তলিয়ে রাখা হয়।

আবার ‘বর্ণবৈষম্য বিলোপ’ নিয়েও কিছু গড়পড়তা স্টেরিওটাইপ আলাপ হয়। যেখানে ক্ষমতা, প্রান্তিকতা, বাণিজ্য, প্রাণ-প্রকৃতির সম্পর্ক ও হেজিমনির বহুমুখী প্রবণতাগুলো প্রবলভাবে অনুপস্থিত থাকে। এখনো বাংলাদেশের ‘বর্ণবৈষম্য বিলোপের’ আলাপ দৃশ্যমান ‘জাত-পাত-অস্পৃশ্যতার’ মুখস্থ বয়ানে বন্দী।

কেন কয়লাখনি বা গ্যাস জরিপের জন্য আদিবাসী আর কৃষকদের গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়, কিংবা আদিবাসীরাই কেন বরাবর সস্তা প্রদর্শনযোগ্য বিনোদন বস্তুতে পরিণত হন—এসব এখনো আমাদের ‘বর্ণবৈষম্য ডিসকোর্সের’ আলাপ হয়ে ওঠেনি।

কেন উপকূল, বরেন্দ্র, পাহাড় বা শহরের বস্তিতে গরিব নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক কলস পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কিংবা কেন কৃষিকাজ করে ফসলের দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করে গরিব কৃষক? সারাজীবন একদলা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার না করেও কেন ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ি ঢল বা খরায় চুরমার হয়ে যায় বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীর জীবন?

কেন পৃথিবীর ধনীরা ৬০ লাখ টাকা দিয়ে এক বোতল কণানিঘারি পানি খায়, আর লবণ-পানির কারণে ঘা হয়ে জরায়ু কাটতে বাধ্য হয় বাংলাদেশের গরিব জেলে নারী? প্রতিদিন না খেয়ে কেন দুনিয়ায় লাখো শিশু নিদারুণভাবে ঘুমাতে যায়, অন্যদিকে খাবার বিনষ্টকারী দেশের তালিকা তৈরি করে জাতিসংঘ।

গরিব, ক্ষমতাহীন, কৃষক, জেলে, আদিবাসী, কবিরাজ, বনজীবী, ভূমিহীন জনতার সঙ্গেই কেবল নির্দয় বৈষম্য ও বিভাজন প্রশ্নহীনভাবে জারি আছে। উপনিবেশিকতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা আধুনিক বর্ণবৈষম্যর সব বহুরূপী বাহাদুরিকে মূলধারার আলাপে টানতে হবে।

পানি সংকট ও বনভূমি নিশ্চিহ্নকরণের সঙ্গে বর্ণবাদী মনস্তত্ত্ব ও  কাঠামোগত বৈষম্য প্রবলভাবে সম্পর্কিত। বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির আমূল বদল না ঘটলে কোনোভাবেই সবার জন্য পানির অধিকার নিশ্চিত হবে না, নিজের ব্যাকরণে বিকশিত হতে পারবে না কোনো বন-জঙ্গল।

বন্দুক আর ব্যাটাগিরি দিয়ে জলা বা জঙ্গলের সুরক্ষা হয় না। পানি ও অরণ্যকে বুঝতে হয় এর বিরাজিত বাস্তুতন্ত্রের শক্তি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক লোকায়ত দর্শন, বিজ্ঞান ও আরাধনা থেকে।

চলতি আলাপখানি পানি, বন ও বর্ণবৈষম্য বিলোপের আলাপ ও তৎপরতাকে একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক পাটাতন থেকে দেখার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জোর দাবি তুলছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা অন্তর্ভুক্তি ও বহুত্ববাদের গ্রাফিতি এঁকেছিলাম। আশা করবো পানি ও বনের ন্যায়বিচার সুরক্ষায় সব বৈষম্যমূলক প্রবণতা ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে খারিজ করে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দ্রুত তৎপর হবে সরকার।

পানি নাকি মৌলিক অধিকার?

পানি নিয়ে তর্ক আজকের নয়। হয়তো এ তর্ক দুনিয়ায় জারি থাকবে। পানির কথা উঠলেই নানা বুদবুদ তৈরি হয়। পানির উৎস থেকে শুরু করে পানি ব্যবহার, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান, কারিগরি, সংরক্ষণ, দখল, দূষণ, বিপর্যয়, দুর্যোগ, বাণিজ্য, প্রবেশাধিকার, ক্ষমতা, রাজনীতি কিংবা পানিহীনতা—সব নানারেখায় গড়িয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অনুমোদনের পর ১৯৯৩ সালের ২২ মার্চ প্রথম পালিত হয় বিশ্ব পানি দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিটি দিবসের মতোই পানি দিবসে প্রতি বছর প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়। ৩০ বছর আগের ১৯৯৫ সালের প্রতিপাদ্যকে আবারো কেন্দ্রে রেখে ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘পানি ও জেন্ডার’।

নির্দয়ভাবে পানির বোঝা নারীর ওপর চাপানো হয়েছে। প্রতিদিন দেশের প্রতি ঘরে পান ও গৃহস্থালি কাজে যে পানি লাগে, তা যোগায় নারী। মাইলের পর মাইল হেঁটে, মারামারি করে, আছাড়-আঁচড় সয়ে, জীবনের মূল্যবান সময় হত্যা করে নারীকে পানি নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়। আর পুরুষ কী করে, পাবলিক পানি বোতলে ভরে বিক্রির ব্যবসা সামলায়, কিংবা পানি দখল বা বণ্টন নিয়ে ক্ষমতার চর্চা করে।

এই যে পানির কষ্টে ছাতিফাটা দেশে গ্যালনের পর গ্যালন পানি বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি বোতলে ভরে দেদার বিক্রি করে, এ নিয়ে রাস্তায় বা সংসদে কেউ প্রতিবাদ জানায়?

পানি মূলত ক্ষমতার প্রশ্ন। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে বিনামূল্যে নিরাপদ খাবার ও ব্যবহারের পানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে অঙ্গীকার করা হলেও দেশের সর্বত্র পানি কিনেই খেতে হয়, বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। হাইকোর্ট পানিকে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ঘোষণা করেছেন—সব শ্রেণি, বর্গ, জেন্ডার, জাতি, ধর্ম, পেশা, অঞ্চল ও ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী সবার।

এক বছরের ভেতর সব সর্বজনীন স্থানে বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সরকার কী এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে পারবে?

বন অধিকার আইন জরুরি

২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২১ মার্চকে আন্তর্জাতিক বন দিবস ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালের বন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বন ও অর্থনীতি’।

বাংলাদেশ বননির্ভর অর্থনীতি কিংবা জাতীয় অর্থনীতিতে বনের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়নি। বনকে সর্বদা দেখা হয়েছে ঘনফুট কাঠের মাপে। বন হলো এক কাঠের বিপণীবিতান আর পশুপাখি রাখার চিড়িয়াখানা। দেশের একটা বনও সুস্থ নেই, অক্ষত নেই।

রাষ্ট্র ও এজেন্সির অবিচার শরীরে নিয়ে কোনোমতে টিকে থাকার লড়াই করছে দেশের সব বনাঞ্চল। অথচ ভৌগলিকভাবে আমাদের বনের বৈচিত্র্য পৃথিবীর মধ্যে বেশ গুরুত্ববহ।

বন নিয়ে কথা বললেই সচরাচর বনবিভাগকে মুখস্থবিদ্যা অনুযায়ী শত্রুপক্ষ বানানো হয়। বন বনাম বনজীবী এবং বননির্ভর আদিবাসী—এটি একটি চাপিয়ে দেওয়া বাইনারি বিভাজন। ঠিক বাঙালি বনাম উপজাতি বাইনারির মতো।

আর এই বাইনারি বিভাজন বনজীবী ও বননির্ভর আদিবাসীদের সঙ্গে ক্রমশই রাষ্ট্রের মনোজাগতিক দূরত্ব তৈরি করেছে। আবার একইসঙ্গে বনবিভাগ এই বাইনারিকে কখনোই প্রশ্ন করে না বলে বনবিভাগ আদিবাসী ও বনজীবীদের কাছ থেকে লোকায়ত বনবিদ্যা ও সংরক্ষণের অবিস্মরণীয় জ্ঞানগুলো শিখতে বুঝতে পারেনি।

ঐতিহাসিকভাবেই বনবিভাগের মাধ্যমে যে উপনিবেশিকতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্তৃত্ব দিয়ে উদ্ভিদ-উদ্যান বা চিড়িয়াখানা পাহারা দেওয়া যায়, কিন্তু প্রাকৃতিক বনভূমির বিকাশ ও বিস্তার সম্ভব হয় না। কারণ বাস্তুতন্ত্র একটি প্রাকৃতিক ও সামাজিক শক্তির জটিল প্রণালীতে বিকশিত হয়ে চলে।

বনের নিজের অধিকার আছে নিজেকে নিজের মতো বিকাশ ও অভিযোজনের। বনের সত্তার আইনি স্বীকৃতি জরুরি। আবার একইসঙ্গে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষসহ সব প্রাণ-প্রজাতির অধিকারকেও আইনি স্বীকৃতির ভেতর আনা জরুরি। সরকার বন অধিকার আইন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করতে পারে।

‘কলিজা জ্বলতাছে’

বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, ‘বর্ণবাদের প্রাচীন বিষ এখনো জনগোষ্ঠী, সমাজ, দেশ ও অঞ্চলে জীবন্ত আছে; ঐক্য ও তৎপরতাই এর প্রতিষেধক।’

আমাদের কাছে কী পর্যাপ্ত প্রতিষেধক আছে? এই প্রতিষেধক কী বাইরে থেকে চাপানো কোনো বাইনারি বাণিজ্য বা উপনিবেশিকতার রগড়, নাকি নিম্নবর্গের লোকায়ত ঐতিহাসিকতা? রাষ্ট্র কার প্রতি আস্থা ও আইনি ভিত্তি বহাল রাখবে—জনগণ নাকি বৈষম্যমূলক কর্তৃত্ববাদের?

সেচের পানি বঞ্চনার কারণে রাজশাহীর দুই সাঁওতাল কৃষক আত্মহত্যার পর সেই নিমঘটু গ্রামের আরও সাঁওতাল কৃষক বলেছিলেন, ‘পানি নাই মাটির কলিজা জ্বলতাছে।’ সাতক্ষীরার গাবুরাতে পানির অভাবে ধানের কলিজা জ্বলার গল্প শুনেছিলাম আরেক বাঙালি কৃষকের কাছে।

জঙ্গলের কলিজা জ্বলুনির বহু ক্ষোভ চিৎকার প্রতিদিন শুনতে হয়। ঢাকার বেরীবাঁধ বস্তিতে পানির অভাবে কলিজা ফাটার কাহিনী শুনেছি বহুজনের কাছে। দেশব্যাপি ‘কলিজা জ্বলতাছে’। পানি, মাটি, পাখি, মাছ, মানুষ, বসতি, গ্রাম, জলা, জঙ্গল—সবার ‘কলিজা জ্বলতাছে’।

রাষ্ট্রের কোনো একটি পক্ষ, কোনো একক মন্ত্রণালয় বা দপ্তর বা বিভাগ এই সংকট সামাল বা সুরক্ষা দিতে পারবে না। দরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যকর সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তৎপরতা। বর্ণবাদী বৈষম্যমূলক মনস্তত্ত্ব চুরমার করে রাষ্ট্রকে সব কলিজার সপক্ষে দাঁড়াতে হবে।

 

পাভেল পার্থ: গবেষক ও লেখক
[email protected]

১৬ দিনে বেনাপোল দিয়ে এসেছে ৫ হাজার টন চাল

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩২টি চালানে মোট ৫ হাজার ৫ টন সেদ্ধ চাল দেশে এসেছে। গতকাল বুধবার চাল আমদানির সরকারি সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই পরিমাণ চাল ভারত থেকে বেনাপোলে প্রবেশ করে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে গত মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত ১৬ কর্মদিবসে এসব চালানের চাল বন্দরে এসে পৌঁছায়। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মেসার্স হাজি মুসা করিম অ্যান্ড সন্স এবং কে বি এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব চাল এনেছে। 

বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৬ হাজার ১২৮ টন চাল আমদানি করা হয়। এরপর দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সরকার ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। আমদানির কাজ শেষ করার জন্য ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয় এবং এই সময়ের মধ্যেই আমদানিকৃত চাল দেশের বাজারে বাজারজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজি মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আবদুস সামাদ জানান, তারা ১৬ দিনে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪১টি ট্রাকে করে প্রায় ৫ হাজার ৫ টন মোটা চাল আমদানি করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি কেজি চালের আমদানি খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। এই চাল খোলাবাজারে প্রায় ৫১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রায়হাত হোসেন বলেন, দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে এই মোটা চাল এনেছে। চালের চালানগুলো যাতে বন্দর থেকে দ্রুত ছাড় করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।