সৌদি ফুটবলের অন্দরমহলে ফের তোলপাড়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। “জুনে আল নাসর ছাড়তে পারেন সিআরসেভেন,” এমন শিরোনামে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নির্ভরযোগ্য সূত্র।
বিতর্কের সূত্রপাত ফ্যাব্রিজিও রোমানোর এক টুইটে। সেখানে তিনি জানান, “ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আল-রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলছেন না। এটি কোনো চোট বা শারীরিক সমস্যার কারণে নয়, কিংবা অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার চাপ থেকেও নয়।” এই একটি বক্তব্যই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
এরপরই বিস্ফোরক ঘটনা ঘটে। আল রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচে স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েন রোনালদো। এটি ছিল তার পূর্বঘোষিত হুমকির বাস্তব রূপ। সাবেক স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্তাস তারকার ক্ষোভের মূল কারণ সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের (পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড) ট্রান্সফার নীতি।
এই তহবিলই আল-নাসর, আল-হিলাল, আল-আহলি ও আল-ইত্তিহাদের মালিক। রোনালদোর অভিযোগ, এই নীতির ফলে আল নাসরের শক্তিশালী দল গঠনের পথ রুদ্ধ হচ্ছে এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করা হচ্ছে।
বিশেষ করে করিম বেনজেমার আল-ইত্তিহাদ থেকে আল-হিলালে যোগ দেওয়া ছিল “শেষ খড়কুটো”। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম রেকর্ড–এর দাবি, “রোনালদো মনে করেন, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ইচ্ছাকৃতভাবে আল-নাসরের ট্রান্সফার আটকে দিচ্ছে, যাতে দলটি লিগ শিরোপা জিততে না পারে।”
এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, ১৯ ম্যাচ শেষে আল-নাসরের পয়েন্ট ৪৬, আর শীর্ষে থাকা আল-হিলালের পয়েন্ট ৪৭। ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট।
এখনও নিশ্চিত নয়, রোনালদো নিজের অবস্থানে কতটা অনড় থাকবেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই কৌশল তিনি টেবিলে রেখেছেন। রেকর্ড জানায়, জুন মাসে সৌদি আরব ছাড়ার বিষয়টি তিনি “গভীরভাবে বিবেচনা করছেন”।
রোনালদোর ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষায়, “সৌদি ফুটবলে বিপ্লব ঘটাতে তার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তিনি সৌদি ফুটবলকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এমনকি ২০৩৪ বিশ্বকাপের সৌদি রাষ্ট্রদূত হওয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বাড়াতে। এই অবদানের পরও তিনি মনে করেন, তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি।”
২০২৭ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে, বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে নবায়নও করেছেন। তবে সেই চুক্তিতেই আছে একটি রিলিজ ক্লজ, যার মাধ্যমে তিনি চাইলে নিজেই বিদায় নিশ্চিত করতে পারেন। প্রায় ৪১ বছরে পা রাখতে চললেও প্রস্তাব পেতেই পারেন। যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে সবচেয়ে এগিয়ে, যদিও ইউরোপে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু শর্ত একটাই, চুক্তিতে উল্লেখ থাকা ৫০ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধে আগ্রহী ক্লাব থাকতে হবে।
সৌদি আরবের ভেতরেই অনেকে তাকে কার্যত বিদায় জানাতে শুরু করেছেন। ক্রীড়া সাংবাদিক আদেল আল-মুলহিম সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাই তিনি চুক্তি নবায়ন করেছিলেন। তিনি অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু তারা তাকে হতাশ করেছে। ধন্যবাদ, ফেনোমেনন। বিদায়।”
এই লড়াইয়ে রোনালদো একা নন, আল নাসর ক্লাবও কার্যত তার পাশেই দাঁড়িয়েছে। আল রিয়াদের বিপক্ষে জয়ের পর ক্লাবের আচরণই তার প্রমাণ। কোনো তথ্য না দেওয়া, সম্পূর্ণ নীরবতা, সব মিলিয়ে ছিল এক ধরনের “ইনফরমেশন ব্ল্যাকআউট”।
থামানিয়াহ স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ড খেলোয়াড়দের মিক্স জোনে কথা বলতে নিষেধ করে। এমনকি কোচ হোর্হে জেসুসও ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলন বর্জন করেন। সৌদি প্রো লিগের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিধি অনুযায়ী এতে আল-নাসরের প্রায় ৬,৭০০ ইউরো জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।
