২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে যেসব খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশেই ভেজাল, দূষণ বা পুষ্টিমানের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার বিএফএসএর সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) মোহাম্মদ মোস্তফা এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত অর্থবছরে ১ হাজার ৭১৩টি খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫৭১টিতে ভেজাল, দূষণ বা নিম্নমানের উপকরণ পাওয়া গেছে। এসব খাদ্যের মধ্যে আচার, সস, চিপস, মুড়ি, ফলের পানীয়, সরিষার তেল, মাখন, সয়াবিন তেল, ডালডা এবং মধু রয়েছে।
মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, আর্থিক লাভের জন্য খাবারে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানো বা ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করাকে ভেজাল বলা হয়। যেমন মরিচের গুঁড়ায় ইউরিয়া বা খাবারে ক্ষতিকর রং মেশানো। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় বা পরিবেশ থেকে ক্ষতিকর উপাদান (যেমন ট্রান্স-ফ্যাট) খাবারে প্রবেশ করলে তাকে দূষণ বলা হয়। আর নির্দিষ্ট উপাদানের পরিমাণ কমবেশি হলে (যেমন ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ ঘাটতি) তাকে মানের বিচ্যুতি বলা হয়।
তিনি জানান, বিএফএসএ এখন শিশুদের খাবার যেমন চিপস এবং আগে কখনো পরীক্ষা করা হয়নি এমন পণ্যসহ বহুল ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের (যেমন ডাল, পরোটা) ওপর বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।
বিএফএসএর পরীক্ষায় ৬৫ শতাংশ চিপসে অ্যাক্রিলামাইড পাওয়া গেছে। এটি খাবার ভাজা বা পোড়ানোর সময় তৈরি হওয়া ক্ষতিকর রাসায়নিক। কিছু ভোজ্যতেলে পুষ্টিমানের ঘাটতি এবং সরিষার তেলে সয়াবিন তেলের মিশ্রণও পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশে এখনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় মানদণ্ড তৈরির কাজ চলছে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (যেমন ইউরোপের অ্যাক্রিলামাইড সীমা ০.৭৫ পিপিএম) ব্যবহার করে দেখা গেছে, অনেক স্থানীয় পণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা সীমার চেয়ে বেশি।
বিএফএসএর তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণের হার বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল বা দূষণ পাওয়া গিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার চাষাবাদে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং গবাদিপশুতে হরমোন প্রয়োগের মতো সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিএফএসএ চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, প্রথমবারের মতো পরীক্ষার ফলাফলগুলো একটি ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
