-1 C
New York

খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস: টিআইবি

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের দুটি খসড়াকে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার পরিপন্থী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শনিবার টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন, স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এ দাবির প্রতিফলন থাকলেও প্রতিবেদন হস্তান্তরের দশ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার।

মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ শীর্ষক দুটি খসড়া প্রকাশ করায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি। 

সংস্থাটির মতে, জনপ্রত্যাশা ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গণমাধ্যম খাতে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যেই এই খসড়া দুটি প্রণয়ন করা হয়েছে। 

মাত্র তিন দিনের মধ্যে মতামত আহ্বান করাকেও তারা অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস হিসেবে দেখছে।

আজ দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উভয় খসড়ায় প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে। এটি মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত।’

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি হতাশাজনক হলেও এতে তারা বিস্মিত নন। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। 

মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে একই ধরনের প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানা সীমাবদ্ধতা এবং সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাবে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সরকার সেই সুপারিশে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয়নি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগকে অপরিণামদর্শী উল্লেখ করে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে পরিণত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। 

পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়, যাতে তারা নতুন সংসদ গঠনের পর নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও অঙ্গীকারের আলোকে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগী হয়।

টিআইবির ভাষ্য, এমন একটি কমিশনই সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

Related Articles

Latest Articles