-1.6 C
New York

‘বিসিবিতে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বর্তমানে একাধিক সংকটে জর্জরিত। বোর্ডের ভেতরে নানা দায়িত্বে থাকা সাবেক জাতীয় অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ডেইলি স্টারের আব্দুল্লাহ আল মেহেদীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে। নিচে সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষের সুন্দর ও সাবলীল ভাবানুবাদ তুলে ধরা হলো—

দ্য ডেইলি স্টার: বর্তমান সময়ে বিসিবির কার্যক্রমকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

খালেদ মাহমুদ সুজন: খুব সোজা করে বললে, অবস্থা ভালো নয়। বোর্ড পরিচালকদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অনেকেই আছেন যাদের ক্রিকেট ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, আবার সংগঠনিক দক্ষতাও নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। করপোরেট স্টাইলে ক্রিকেট বোর্ড চালানো যায় না।

ডেইলি স্টার: বিসিবি-আইসিসি অচলাবস্থায় কি কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল বলে মনে করেন?

সুজন: মোস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই অপমানিত বোধ করেছি। যেহেতু সরকার বলেছে আমরা যেতে পারব না, তাই সেটা আমাদের মেনে নিতেই হয়েছে, এবং সেটাই যৌক্তিক, কারণ বিষয়টি আমাদের সম্মানে আঘাত করেছে। বিসিবি কূটনৈতিকভাবে আইসিসির সঙ্গে কতটা সফল হয়েছিল, সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না, যদিও তারা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল। হয়তো পরিস্থিতিই এমন ছিল যে আইসিসিও এটি সামলাতে পারেনি। সত্যি কথা বলতে, এখানে একজনকে দোষ দিলে সবাইকেই দোষ দিতে হয়। ক্রিকেটারদের জন্য, যারা ক্রিকেটকে হৃদয়ে ধারণ করে, এই পরিস্থিতি রক্তক্ষরণের মতো অনুভূতি তৈরি করে। বিশ্বকাপে না যেতে পারাটা সত্যিই খুব কষ্টের।

ডেইলি স্টার: যেদিন আইসিসি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য দলকে রাখল, সেদিনই বোর্ডে সাকিব আল হাসানের ফেরার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। আপনার কি মনে হয়, সেটা করা উচিত ছিল?

সুজন: ওই সময় সাকিবকে দলে ফেরানো নিয়ে আলোচনা করা মোটেও প্রাসঙ্গিক ছিল না। এসব আলোচনা না করে, কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত ছিল। যদি সরকারিভাবে সাকিবের ব্যাপারে অনুমোদন না আসে, তাহলে বিসিবি সে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। ওই সময় বিশ্বকাপ নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। হয়তো বিষয়টা দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর একটি চেষ্টা ছিল।

ডেইলি স্টার: বিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ভেতরের সূত্রে এম নাজমুল ইসলামের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই অস্পষ্টতা ও খেলোয়াড়দের বিসিবির ওপর আস্থাহীনতার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

সুজন: বোর্ড ছাড়া ক্রিকেটকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। যদি তারা এটা স্বীকার না করে, তাহলে তারা বড় ভুল করছে। প্রতিটি ধাপে খেলোয়াড়রা বোর্ডের কাছ থেকে অসম্মানের শিকার হচ্ছে। বোর্ডই সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব, এবং যে কাউকে যে কোনো পদ দেওয়ার এখতিয়ার তাদের আছে। কিন্তু কথা বলার সময় তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বোর্ড ঐক্যবদ্ধ নয়। বিসিবিতে কোনো চেইন অব কমান্ড নেই।

ডেইলি স্টার: ক্লাব ক্রিকেটের সংকট সমাধানে কি বিসিবি ব্যর্থ হচ্ছে?

সুজন: হ্যাঁ, ব্যর্থতা আছে। তবে ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগের ক্লাব ও আয়োজকেরাই যদি খেলতে না চায়, তাহলে বোর্ডের পক্ষে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। তাই শুধু বোর্ডকেই দোষ দেব না। ক্লাবগুলোরও দায় আছে। এমনকি কোনো ক্লাব অবনমন হলেও কাউন্সিলর তো কাউন্সিলরই থেকে যায়, কিন্তু এই দ্বন্দ্বে খেলোয়াড়দের যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটা কেউ ভাবছে না।

ডেইলি স্টার: মার্চ পর্যন্ত জাতীয় দলের সূচিতে ফাঁকা সময় রয়েছে। এখন কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

সুজন: আমার মনে হয়, একটি ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা উচিত, যাতে সব খেলোয়াড়ই নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়।

Related Articles

Latest Articles