-3 C
New York

কিছু খারাপ লোক বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু খারাপ লোক আছে, যারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়।

এ ব্যাপারে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আজ সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের বেগুনবাড়ীতে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘সামনে ১২ তারিখে ভোট। এমপি ইলেকশন হবে। আমাদের এখানে তো ভোট বলতে আমরা বুঝি চেয়ারম্যান ভোট আর এমপি ভোট। চেয়ারম্যান ভোট, এমপি ভোট গত সরকারের আমলে সবগুলো আগে ভাগে নিয়ে নিত, ভোটাররা ভোট দিতে পারতো না। অনেকদিন পরে এবার আমাদের একটা সুযোগ এসেছে ভোট দেওয়ার। আমরা এই ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে ভোট দিয়ে নতুন একজন এমপি প্রতিনিধি নির্বাচন করব। যে এমপি প্রতিনিধি আমাদের ভবিষ্যতে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ এবং আইন তৈরি করবে, যে আইনগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা একটা সুন্দর দেশ পাব।’

তিনি বলেন, ‘১৫ বছর আমরা সেই সুযোগটা পাইনি। এবার আমরা সেই সুযোগ পাব। আমরা আশা করছি, এবার আমরা নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে যারা ভোটার রয়েছি, তারা ভোট দিতে পারবো। নতুন ভোটার অনেক আছে। বেশির ভাগই নতুন ভোটার। এবার তারা তাদের মতামত প্রকাশ করবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আর নির্বাচন করবেন না জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই শেষবার, আমার বয়স হয়ে গেছে অনেক। ৭৮ বছর বয়স। অনেকে বলে আশিতে আসিও না। আমাদের যাদের বয়স হয়েছে, আমরা অসংখ্য রোগে ভুগি। কিন্তু আমার এখনো এই সাহসটা আছে, মনের মধ্যে জোরটা আছে, যে আমি এখনো বোধ হয় কিছু দিন কাজ করতে পারবো।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ১৫ বছর খুব কষ্ট করছি ভাই। এখানে সবাই জেলে গেছে। কেন? দোষটা কোনো চুরি না, ডাকাতি না। ওরা গণতন্ত্র চায়, ভোট দিতে চায়, সুতরাং, ওদেরকে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দাও। আমি ১১৭টা মামলার আসামি ছিলাম, ১১ বার জেলে গেছি, সড়ে তিন বছর জেলে থেকেছি। যারা জেলে থেকেছে, তারা জানে জেলের কী কষ্ট। এটা সত্য কথা। তারপরও আমরা কিন্তু থেমে থাকি নাই। মাথাটা নিচু করি নাই, মাথাটা উঁচু করে চলছি—যে আমরা ন্যায়ের পথে আছি, সত্যের পথে আছি। আমরা চাই তো বাবা ভোট, সোনাদানা গহনা তো চাই না! ভোটটা আমার রাইট, অধিকার। এটা (ভোট) আমাকে দিতে দেয়নি আগের সরকারটা, হাসিনা সরকারটা। দেয়নি তো দেয়নি, জেল খাটাইছে, মারছে, গুলি করছে, ফের এক সময় ছাত্র-জনতা যখন পাড়া দিছে, তখন দেশ ছেড়ে পালাইছে।’

‘পালালো তো পালালো, এখানে যারা আওয়ামী লীগ করে, তাকে সমর্থন করে, নৌকায় ভোট দিতো, সবগুলাকে বিপদে ফেলে চলে গেল। এ রকম নেতা তো আমরা চাই না। যে নিজের লোককে ফেলে পালায় যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেশে ছেড়ে চলে যাইনি। আমার নেত্রী খালেদা জিয়া উনি বলছেন যে, বাইরে আমার কোনো বাড়িঘর নাই। এই বাংলাদেশে আমার বাড়ি, এই মাটিতেই আমি থাকব। এখানেই উনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বেগম জিয়া যেদিন মারা যান। গত মাসের ৩০ তারিখে…আপনারা দেখছেন যে গোটা ঢাকার রাস্তায়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে, মাঠে কোথাও জায়গা ছিল না। গোটা বাংলাদেশের মানুষ হাজির হয়েছে, তার জানাজায় শরিক হয়ে তার জন্য দোয়া করেছে। কেন? খালেদা জিয়াকে মানুষ মনে করেছে যে, এটা আমাদের অভিভাবক। আমাদের মাথার ছায়া। মাথার উপরে থেকে উনি আমাদেরকে রক্ষা করতেন। আমাদের জন্য পথ করতেন। আমাদের জন্য জেল খেটেছেন ছয় বছর। ওখান থেকে অসুস্থ হয়েছেন। অনেক চেষ্টা করেছি আমরা, তাকে রাখতে পারি নাই। আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।’

‘আমাদের বেগম জিয়া চলে গেছেন, শহীদ জিয়া চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন তার ছেলে তারেক রহমানকে। তারেক রহমান আমাদের নতুন নেতা। তাকেও ১৮ বছর বিদেশে নির্বাসন দিয়ে রেখেছিল। উনি দেশে এসে এখন মানুষের কাজ করার জন্য, দেশের কাজ করার জন্য সারা দেশে ছুটে বেড়াচ্ছেন।’

অতীতের অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে কাজগুলো আমরা অতীতে করা শুরু করেছি, ইনশাআল্লাহ, আমরা যদি নির্বাচিত হয়ে যেতে পারি, তাহলে আমরা এই কাজগুলো করব। আমি যখন প্রতিমন্ত্রী ছিলাম ২০০১ সালে, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম, এমপি হয়েছিলাম, তখন আমরা একটা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এখানে করেছি। বেগম জিয়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট। আমাদের ছেলেরা পাস করে ভালো ভালো চাকরি-বাকরি পাচ্ছে। এ রকম আরও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব যাতে আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা কাজ করার সুযোগ পায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান বলেও জানান এই নেতা। বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। সবাই ভালো। আমরা আরও ভালো হতে চাই। ভালো কাজ করতে চাই। আমরা আমাদের মাদেরকে, বোনদেরকে, আমাদের মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে চাই। আমাদের ভাইদের জন্য আমরা কর্মসংস্থান করতে চাই। আমি শুধু একটা কথা বলবো, আমাদের কিছু খারাপ লোক আছে, যারা আমাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। এই বিভেদ যেন কেউ সৃষ্টি করতে না পারে। হিন্দু-মুসলমান আমরা এখানে একসাথে বড় হয়েছি, একসাথে থাকি বছরের পর বছর ধরে। হিন্দু ভাইদেরকে বলতে চাই, আপনারা নিজেদেরকে ছোট মনে করবেন না। আপনারা ভয় পাবেন না, সাহসী থাকবেন। কারণ আপনাদেরকে কেউ কিছু করলে আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা আপনাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি আমরা আমানত খেয়ানত করি না। আমরা যে ভোট নেই, আমরা কাজ করার চেষ্টা করি। ভোট নিয়ে আমরা ঘুষ খাই না। স্কুলের মাস্টার, দপ্তরীর চাকরির জন্য আমরা ঘুষ নেব না, দেবো না, নিতেও দেবো না। চাকরির জন্য পয়সা নেব না। কোনো দিন নেব না এবং অন্যরা যেন না নিতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’

Related Articles

Latest Articles