খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে একইসঙ্গে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোট ১৫টি কর্মসূচির নতুন হার ও পরিসর নির্ধারণ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ করা হয় এক লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যার মধ্যে পেনশন বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। পেনশন ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মোট সংখ্যা ৬৭৬ জন হলেও বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫৮৩ জন। বর্তমানে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা ৩০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় ভাতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া বীর উত্তমরা ২৫ হাজার টাকা, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ২০ হাজার টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। অন্যদিকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পাচ্ছে ৩০ হাজার টাকা।
নতুন করে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা বাড়লে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের ভাতা হবে ৩৫ হাজার, বীর উত্তমদের ৩০ হাজার টাকা। আর বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকরা পাবেন ২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা ৩৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছয় হাজার ৭৫৭ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে পাঁচ হাজার ৩৫৮ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ভাতা পায়। বাকি এক হাজার ৩৯৯ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ভাতা নেয় না।
খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বাড়লেও মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
