ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সবশেষ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগর হাউলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক মো রাজিব (২২) ভালুকার কাশর পূর্বপাড়া এলাকার সোহরাব উদ্দিনের ছেলে। সে একজন বেকার যুবক।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ রোববার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে রাজিবকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। তবে রিমান্ড শুনানি না হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পিএসএম মোস্তসিনুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
দ্য ডেইলি স্টারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন বলেন, ‘দিপু দাস হত্যাকাণ্ডে অন্যান্যদের সঙ্গে উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে জনতাকে উসকে দেওয়া অভিযোগ রয়েছে রাজিবের বিরুদ্ধে। হত্যা সংগঠিত হওয়ার পর রাজিব আত্মগোপনে চলে যান।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সংঘটিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দির সাথে রাজিবের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
তাদের মধ্যে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১১ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৮ জন আসামিকে ইতোমধ্যে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে কারখানার ভেতরে একদল শ্রমিক দিপুকে মারধর শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা দিপুকে কারখানার বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মরদেহ আংশিক পুড়ে যায়।
পরের দিন নিহতের ভাই ভালুকা থানায় ১৪০–১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে এ ঘটনায় ‘ধর্ম অবমাননা’র কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
