বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) এবার অভিষেক হচ্ছে তিনটি ক্লাবের -খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি, শুকতারা যুব সংসদ ও চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাব। রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় তারা নামছে এক অভিন্ন স্বপ্ন নিয়ে, বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) উন্নীত হওয়া। ১০ দল নিয়ে দেশের দ্বিতীয় স্তরের এই লিগের খেলা অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ভেন্যুতে।
যদিও তিন ক্লাবের যাত্রাপথ আলাদা, লক্ষ্য একটাই। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস ফুটবল ক্লাব ও নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবের মতো দলগুলোর পথ অনুসরণ করতে চায় তারা, যারা আগে বিসিএল থেকে উঠে এসেছে শীর্ষ স্তরে। বিসিএলে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল পরবর্তী মৌসুমে বিএফএলে খেলার সুযোগ পায়।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত খেলাঘর এসকেএস বর্তমানে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ ও নারী প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে দল পরিচালনা করছে। রোববার ফর্টিস গ্রাউন্ডে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিসিএলে তাদের অভিযান শুরু হবে।
ক্লাব সভাপতি মাহমুদুর রহমান বারকাত দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রায় ২২ বছর আগে নানা সমস্যার কারণে খেলাঘর ফুটবল থেকে সরে এসে ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়। এর আগে আমরা পাইওনিয়ার ফুটবল লিগে খেলেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আবার ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, মানুষ নতুন করে খেলাটির দিকে ঝুঁকছে, এই কারণেই আমরা আবার ফুটবলে ফিরেছি।’ ফার্মগেটভিত্তিক ক্লাবটি ঢাকার বিভিন্ন লিগে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে একটি ‘চ্যাম্পিয়ন দল’ গড়েছে বলেও জানান তিনি।
১৯৭৪ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত শুকতারা যুব সংসদ এর আগে ২০০৯-১০ মৌসুমে দেশের শীর্ষ পেশাদার লিগে অংশ নিয়েছিল। তবে অবনমনের পর ধীরে ধীরে তারা দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যায়।
ক্লাবের সমন্বয়ক ও নির্বাহী সদস্য মাহাবুবুল হক তালুকদার বলেন, ‘দেশের শীর্ষ বা দ্বিতীয় স্তরের লিগে থাকতে না পারায় আমরা হতাশ ছিলাম। তবে বাদ পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে আবার দ্বিতীয় স্তরে ফিরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সুযোগ এবার পেয়েছি, সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চাই,’ এবং জানান, পুনরায় বিএফএলে ফেরাই শুকতারার মূল লক্ষ্য। সাবেক জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সালকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর দলটি নারায়ণগঞ্জেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি ঢাকার ফুটবলে বন্দরনগরীর প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ক্লাবটি আগে ‘বাংলাদেশ বয়েজ’ নামে চট্টগ্রাম লিগে খেলত। তবে রাজধানীতে একই নামে আরেকটি ক্লাব গড়ে ওঠায় তারা নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল ক্লাব হয়।
ক্লাব সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ফুটবলের রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। আমরা ফুটবলের মাধ্যমে ঢাকায় চট্টগ্রামকে প্রতিনিধিত্ব ও ব্র্যান্ড করতে চাই। তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিএফএলে ওঠা।’
তিনি আরও জানান, শিরোপা লড়াইয়ের লক্ষ্যে দলে চট্টগ্রামের ১৬-১৭ জন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ঢাকার অভিজ্ঞ ফুটবলারদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার ফোর্টিস গ্রাউন্ডে শুকতারা যুব সংসদের বিপক্ষে মাঠে নামবে চট্টগ্রাম সিটি। তবে বড় লক্ষ্য থাকলেও তিন ক্লাবের কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, ১৫ জানুয়ারি দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাদের প্রস্তুতি ছিল সীমিত।
এ ছাড়া, ওয়ারী ক্লাব, সিটি ক্লাব, ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাব, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব ও বিআরটিসি ক্লাবের মতো প্রতিষ্ঠিত বিসিএল দলগুলোর পাশাপাশি অবনমিত ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও চট্টগ্রাম আবাহনিও শিরোপা দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
