-3 C
New York

পঞ্চগড়-১: সারজিস আলম ও নওশাদ জমিরকে শোকজ

পঞ্চগড়-১ (সদর-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান পৃথকভাবে তাদের এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীর অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দিতে বলা হয়েছে।

সারজিস আলমের নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় নিজ নির্বাচনী জোটপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেছেন। আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি ৭ এর (চ) অনুযায়ী দফা (ঙ)-তে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত হলে তিনি কেবল তার বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি, ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ছাপাতে পারবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। অথচ আপনি নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানের সঙ্গে ছবি দিয়ে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার বিধি ৭ (চ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এতে বলা হয়, আচরণবিধিতে তোরণ স্থাপন না করার নির্দেশনা থাকলেও আপনি তিনটি তোরণ নির্মাণ করেছেন। গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যের জনসভায় গেট বা তোরণ নির্মাণ করে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার বিধি ১৩ (ক) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। 

এ ছাড়া আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা না দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়, এটি নির্বাচনী আচরণবিধি ১৬ (ক) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

নোটিশে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি ৭ (চ), ১৩ (ক) ও ১৬ (ক) লঙ্ঘনের দায়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় পুলিশ ও পঞ্চগড় পৌরসভার সহযোগিতায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঞ্চগড় এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধিমালা প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে অভিযান চালান। সে সময় আপনার বা আপনার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে প্রথমে আচরণবিধির ১৩ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের তিনটি তোরণের মধ্যে দুটি তোরণ পৌরসভার সহযোগিতায় অপসারণ করেন। পরে করতোয়া ব্রিজের (সেতু) দুই পাশে আচরণবিধি ৭ (গ) লঙ্ঘন করে স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে ফেস্টুন অপসারণ শুরু করা হয়।  

এতে আরও বলা হয়, সে সময় আপনার কয়েকজন নেতাকর্মী এ কাজে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আচরণবিধিমালায় ফেস্টুনের আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি অনুমোদিত হলেও আপনি আনুমানিক ৬ ফুট বাই ৩ ফুট আকারের ফেস্টুন স্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে বিধি ৭ (৩) লঙ্ঘন করা হয়েছে। এসব ফেস্টুন অপসারণের জন্য বলা হলেও করেননি। পরে অপসারণ করতে গেলে আপনার কর্মীদের বাধার কারণে করা যায়নি।

নোটিশে আরও বলা হয়, আচরণবিধিমালা অনুযায়ী আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা না দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৬ (ক) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

এ ছাড়া আপনার কর্মী-সমর্থকেরা নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছে। তারা গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত হয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি দিয়েছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৫(গ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নির্বাচনী আচরণবিধি ৭(গ), ৭(৩), ১৩, ১৫(গ) ও ১৬(ক) ভঙ্গের দায়ে ও সরকারি প্রচারণা গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি দেওয়ায় কেন আপনার (নওশাদ) বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

শোকজের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ও ছোট ভাই নওফল জমির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমরা নোটিশটি পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  

এ বিষয়ে জানতে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী সারজিস আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনটি।

 

Related Articles

Latest Articles