নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক কলেজশিক্ষককে হত্যার ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিংড়া থানায় নিহতের ভাতিজা হাসানুর রহমান এ মামলা করেন। এতে আবদুল করিম নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুন নূর দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রেজাউল করিম নাটোরের বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
মামলার এজাহারের বরাতে ওসি আবদুন নূর বলেন, আসামিরা রেজাউলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত ১১টায় উপজেলার কলম ইউনিয়নের কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই গ্রামের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সে সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা বেরিয়ে যেতে পারলেও সাবিহা বেগম (৭৫) দগ্ধ হয়ে মারা যান। সাবিহা একই গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওয়াহাবের মা।
সাবিহা বেগম হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ওসি আবদুন নূর বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আসেনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। সন্দেহভাজনকে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রেজাউলের ভাতিজা মো. হায়দার রশিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার চাচার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করতেন। তাই অপরাধী চক্র তাকে চাঁদা দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
আবদুল ওয়াহাবের বাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে আগুন দিয়েছে তা আমরা জানি না। চাচাকে হত্যার করার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে ব্যস্ত ছিলাম।
‘ওয়াহাবের পরিবারের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই’, যোগ করেন তিনি।
নিহত সাবিহা বেগমের পুত্রবধূ হাসিনা বেগম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধীরা হঠাৎ আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা ঘর থেকে বের হতে পারলেও বৃদ্ধ শাশুড়ি পারেননি।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে রেহাই দেয়নি।
