-5.5 C
New York

ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে কারা আছে, কারা নেই

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করল ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ।

আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে এই সনদে সই করেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে এতে সই করেছেন ১৯ দেশের নেতা।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই।

শান্তি পর্ষদ কী জাতিসংঘের বিকল্প? 

গাজা সংকট সমাধানের বাইরে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ আর কী কী করবে, এর পরিধি কতদূর পর্যন্ত যাবে এবং এটি জাতিসংঘের বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কি না—এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম নয়।

শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রাধান্য পায় এ বিষয়গুলো। 

ট্রাম্প নিজেকে বৈশ্বিক শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ‘এই পর্ষদ ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংস্থাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।’

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। বলেন, ‘বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগায়নি জাতিসংঘ।’

শান্তি পরিষদকে আগেই ‘অকেজো’ জাতিসংঘের বিকল্প আখ্যা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে সনদ সই অনুষ্ঠানে কিছুটা সুর পাল্টান তিনি। বলেন, ‘শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের বিকল্প নয়, এটি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবে।’

এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হলে অনেক কিছুই করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত এই পর্ষদে যোগ দিতে ইতোমধ্যে বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও স্থায়ী করার লক্ষ্য নিয়ে এ পর্ষদের পরিকল্পনা করা হলেও পরে এর পরিধি বাড়িয়ে সব ধরনের বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নেন ট্রাম্প।

তার এই উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন, জাতিসংঘের বিকল্প একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছেন ট্রাম্প। 

এ পর্ষদ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংঘাত সমাধানে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে অনেক দেশ।

বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে হলে একশ কোটি ডলার করে দিতে হবে এবং ইউক্রেনে হামলা চালানো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

শান্তি পর্ষদে যেসব দেশ যোগ দিয়েছে

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সনদ সইয়ের মঞ্চে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ১৯ দেশের প্রতিনিধি।

এর মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র—হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।

তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশও যোগ দিয়েছে এ পর্ষদে।

এ নিয়ে ট্রাম্প মজা করে বলেন, ‘তাদের বেশিরভাগই খুব জনপ্রিয় নেতা, কেউ কেউ আবার ততটা জনপ্রিয় নন। জীবন এমনই।’

শান্তি পর্ষদের মোট সদস্য সংখ্যা কত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের মতে, ৫০টি দেশ এই পর্ষদে যোগ দিতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত আরও ৩৫টি দেশ এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অনেকে যোগ দেওয়ার কথা বললেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যায়নি।

এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।

মিসর জানায়, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন, তবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন পর্ষদে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন।

যদিও পুতিন জানিয়েছেন, তিনি আমন্ত্রণটি এখনও পর্যালোচনা করছেন। 

কারা এখনও যোগ দেয়নি

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের এ পর্ষদে যোগ দেওয়া নিয়ে অনীহা স্পষ্ট। 

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের (যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) কেউ এখনো শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়নি। 

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ মার্কিন ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

ফ্রান্স যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য বলেছে, আপাতত তারা যুক্ত হচ্ছে না। 

চীন এ বিষয়ে এখনো অবস্থান জানায়নি।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা রুশ সম্পদ থেকে একশ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।

গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে ‘বোর্ড অব পিস।’

তবে সংস্থাটির মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—কেবলমাত্র ওই প্রেক্ষাপটেই পর্ষদের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা সীমাবদ্ধ থাকবে।

Related Articles

Latest Articles