-6.2 C
New York

নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না: জামায়াত আমির

এই দেশে ফ্যাসিবাদের কোনো ছায়াও দেখতে চান না মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনে দলটির প্রার্থী শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে আমাদের সামনে আসে, তার নিকট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদেরও একই পরিণতি হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ স্কুল মাঠে জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এই জনসভার মধ্য দিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলো।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি কমপক্ষে ৪০ ভাগ মানুষ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। শুধু তাই না, তারা জীবনেও ভোট দিতে পারেননি। এই ভোট যারা কেড়ে নিয়েছিল তাদের নাম হচ্ছে ভোট ডাকাত। আমরা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা, এগুলো থেকে যারা নিজের কর্মীকে বিরত রাখতে পারবে, আশা করি আগামীর বাংলাদেশ তারা জনগণকে উপহার দিতে পারবে।’

এছাড়া দেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপি প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তার ভাষ্য, ‘আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। দুই হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে?’

‘আর আমার ভাই নাহিদ ইসলাম বলেছে, তাতে আবার ভাগ বসিয়ে দেওয়া হবে; ‘খাজনা আগে, তারপর অন্যটা’, ‘দুই হাজারের এক হাজার আমার খাজনা—আমাকে আগে দাও, তারপরে তোমারটা তুমি বুঝে নাও’। তাও না কাল্পনিক কিছু মানুষের চরিত্র এঁকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, বেকারের হাতে নয়।’

শফিকুর রহমানের আগেই জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নাহিদ তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা শুনছি বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক। জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌছাবে তো? দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে এক হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো?’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বৈষম্যগুলোকে আমরা দেখতে পাইনি? টাকা কোত্থেকে আসবে? টাকার সোর্স তো জনগণ। এটা তো আমাদের কারও টাকা না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে। ট্যাক্সের বাইরে কিন্তু একটা বেসরকারি ট্যাক্স আছে।’

‘প্রত্যেকটা মুদি দোকানে রাস্তাঘাটে হকারের কাছে, এমনকি রাস্তার পাশে বসে যে ভাই-বোনটি ভিক্ষা করে, তার কাছ থেকেও একটা ট্যাক্স নেওয়া হয়। ওই ট্যাক্সের টাকা আমরা আমাদের জনগণের হাতে তুলে দিতে চাই না। না, শুধু তাই না; ওই ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’

ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি আর চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আরও বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করেছি—চাঁদা আমরা নেব না এবং চাঁদা কাউকে নিতে দেবো না, ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছি, দুর্নীতি আমরা করব না এবং দুর্নীতি কাউকে করতেও দেবো না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সেই বাংলাদেশটাই আমরা গড়তে চাচ্ছি, যে বাংলাদেশ হবে শিশুর, যে বাংলাদেশ হবে তরুণ-তরুণীর, যে বাংলাদেশ হবে যুবক-যুবতীর, যে বাংলাদেশ হবে একজন মুসলমানের, একজন হিন্দুর, একজন বৌদ্ধর, একজন খ্রিষ্টানের, যে বাংলাদেশ হবে আপামর জনগণের, যে বাংলাদেশ হবে শ্রমিকদের, যে বাংলাদেশ হবে কৃষকদের, যে বাংলাদেশ হবে সকল ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের।’

জনসভায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করার আহ্বান জানান। বলেন, ‘উভয় দলের জন্য একই রকম আচরণবিধি থাকতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। আমরা এখনো মুখে বলে যাচ্ছি। মাঠে নামি নাই। কারণ আমরা মাঠে নামব নির্বাচনের জন্য। আমাদেরকে আন্দোলনের দিকে নামতে বাধ্য করবেন না।’

নাহিদ আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলাম, সে ক্ষেত্রে আমরা অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের অনেক অসমাপ্ত কাজ রয়ে গেছে। ইনশাআল্লাহ এবারের নির্বাচনে আমরা ১০ দলীয় ঐক্য বিপুল ভোটে জয় লাভ করে, সেই অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করব।’

শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামসহ জনসভার অন্য বক্তারাও জাতীয় নির্বাচনের অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিন দুপুর আড়াইটার মধ্যেই সভাস্থল হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। আশপাশের সড়কগুলোতেও অবস্থান নেন জামায়াতসহ ১০ দলীয় ঐক্যের অংশী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা। দুপুর ৩টায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াতের ভেতর দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই বক্তব্য দেন জুলাই শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে সাঈফ খান।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী মীর আহমদ বিন কাশেম, ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামান প্রমুখ।

জামায়াত আমির দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও নাহিদ ইসলামের হাতে শাপলাকলি চিহ্নিত দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসার সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

Related Articles

Latest Articles