বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কনসার্টের আড়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচারে জড়িত কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট।
গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জোটটি এ দাবি জানায়।
এতে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আইন লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, দীর্ঘমেয়াদে নতুন ভোক্তা তৈরির উদ্দেশ্যে তামাক কোম্পানিগুলো পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করছে। এ কাজে তাদের সহায়তা করছে কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান, যারা কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে শিক্ষার্থীদের ধূমপান ও ই-সিগারেট ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
এ ধরনের কার্যক্রম সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছে জোটটি।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট জানায়, বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে। সংশোধিত অধ্যাদেশের ধারা ৬ (খ) অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই পাবলিক প্লেসের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ।
তবে এসব আইনি বিধান উপেক্ষা করে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের সিগারেট ও ই-সিগারেটে আসক্ত করতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি।
বিবৃতিতে ডাকসু ও ‘স্পিরিট অব জুলাই’ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের সমালোচনা করে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে আইন ভঙ্গ করেও শাস্তির মুখোমুখি না হওয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই) এবং আবুল খায়ের টোবাকো কোম্পানি তরুণদের লক্ষ্য করে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, প্রচার, স্পনসরশিপ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিতরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
