বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গঠন করতে পারলে বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিএনপি যাতে তারা দক্ষ ও স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষগুলোকে দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এটিই তার প্রথম নির্বাচনী জনসভা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে করে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান।
সিলেটের প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেটের অধিকাংশ মানুষ লন্ডন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। আমরা চাই এই মানুষগুলোকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে। সরকার থেকেও আমরা ইনশা আল্লাহ সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যাতে সেই দক্ষ মানুষটিকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে পারি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বহু মানুষের জীবনের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে আমরা খেয়াল করছি, দেশের ভেতরে ও বাইরে কিছু মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।’
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট কীভাবে ডাকাতি করা হয়েছে। ঠিক যারা এই দেশ থেকে পালিয়েছে, তারা যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছিল, ঠিক একইভাবে আবার সেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিদেশে বসেও তারা ষড়যন্ত্র করছে। ইলিয়াস আলী, দিদার, জুনায়েদসহ হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে যে অধিকার আমরা অর্জন করেছি, সেই অধিকার রক্ষায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
সিলেটের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণ-আন্দোলনে এই সিলেট শহরেই ১৩ জন জীবন দিয়েছেন। এই প্রাণগুলোর আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা যে অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি, একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। দেশের ভেতরেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিন্তু ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণ প্রমাণ করেছে—সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।’
নির্বাচনের আগেই জান্নাতের টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘শিরক’ বলে আখ্যায়িত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বেহেশত-দোজখের মালিক আল্লাহ। কোনো দল বা মানুষ এর টিকিট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যারা এমন কথা বলে, তারা মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে এবং মুসলমানদের দিয়ে শিরক করাচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেট থেকে অনেকেই হজ বা ওমরাহ করতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেছেন কাবার মালিক আল্লাহ। এই পৃথিবী, আকাশ, সূর্য-নক্ষত্র—সবকিছুর মালিক আল্লাহ। অথচ একটি দল নির্বাচনের আগেই বলছে এই দিব, ওই দিব, এমনকি টিকিটও (জান্নাতের) দিব। যার মালিকানা মানুষের নেই, সেটার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। নির্বাচনের আগেই তারা আপনাদের ঠকাচ্ছে, পরে কেমন ঠকাবে সেটা বুঝেই নিন।’
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময় অনেকের বিতর্কিত ভূমিকা জাতি দেখেছে। তাদের কারণেই লাখো ভাই শহীদ হয়েছেন এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের চিনে রেখেছে। এখন এই মিথ্যাচার ও হঠকারিতার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা বলছেন, এর আগে এক রাজনৈতিক দলকে দেখেছেন, এবার আরেক দলকে দেখুন। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধে লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। সেই সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে, মা-বোনেরা নির্যাতিত হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের চিনে রেখেছে।’
এখন মিথ্যা, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু ভোট ও কথা বলার অধিকার নয়—মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি মানুষ যেন ভালোভাবে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, নিরাপদে চলাচল করতে পারে—সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু ভোট বা কথা বলার অধিকার নয়, দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চায়। দেশের নারীসমাজ, মা-বোন, যুবসমাজ, কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে বিএনপি আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি শহীদ জিয়ার সময়, খালেদা জিয়ার সময় দেশ এগিয়েছে। কলকারখানা হয়েছে, কর্মসংস্থান হয়েছে, মানুষ বিদেশে কাজের সুযোগ পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
