নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভেতরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২ নেতাকে ভূরিভোজ করানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গতকাল রাতে এই সিদ্ধান্ত নেয় জেলা পুলিশ। বিষয়টি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাজতখানার ভেতরে যে আসামিদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে তারা হলেন—কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ জ ম পাশা চৌধুরী এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব বলেন, ‘সোমবার দুপুরে হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় ২ আসামিকে হাজিরার জন্য নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। ওই সময় আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের সহযোগিতায় হাজতখানায় দুই আসামির ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।’
ওই হাজতখানাটি নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার এ ঘটনার ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় আ জ ম পাশা ও ছাইফ উদ্দিনের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এর মধ্যে আ জ ম পাশার স্ত্রী খোদেজা আক্তার, মেয়ে ফালিহা আজম ও ছাইফ উদ্দিনের ছেলে ছাইম উদ্দিনকে দেখা যায়।
জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক-১ মো. সরওয়ার আলম বলেন, ‘হাজতখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে এমন ভূরিভোজের আয়োজনের ঘটনা জানার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। অপর দুই সদস্য হলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর ও পরিদর্শক মো. শাহ আলম।’
বদলি হওয়া ৫ পুলিশ সদস্য হলেন, সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং তিন কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম।
তাদেরকে হাতিয়ার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আ জ ম পাশার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
