শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত ঢাকার সাভার-আশুলিয়ায় বসবাসরত পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ জীবনমান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের প্রার্থীদের প্রতি ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাক শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ৪৩টি শ্রমিক সংগঠন।
আজ বুধবার সকালে সাভার প্রেস ক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে ছয়দফা দাবি তুলে ধরে ৪৩টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটি’।
দাবিগুলো হলো, জনসংখ্যা অনুপাতে সরকারি উদ্যোগে শ্রমিক কলোনি, সরকারি স্কুল ও কলেজ, ডে-কেয়ার সেন্টার, খেলার মাঠ ও বার্ন ইউনিটসহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ; জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ; শ্রমিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক বাতি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ; ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, মাদক বিক্রি ও সেবন, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কারখানাভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা ও সব কারখানায় ফেয়ার প্রাইস শপ চালু এবং শ্রমজীবীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করা। পাশাপাশি বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং সর্বশেষ দাবি, আগামী জাতীয় সংসদে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং স্কপ-এর নয় দফা উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘দেশে বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের জীবনমান, সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। রাস্তায় আলোকসজ্জা ও সিসি ক্যামেরা না থাকায় রাতে কাজ শেষে ফেরার পথে শ্রমিকরা ছিনতাই ও নারী শ্রমিকরা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঝুঁকিতে পড়েন।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তী বছরগুলোতে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধস, হামিম গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড, তাজরিন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গত দুই দশকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক আহত হয়ে আজও পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার্ন ইউনিটসহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণসহ এসব দাবি জানিয়ে আসছি। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।’
‘বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনধারণ করাই কঠিন। এর ওপর অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শ্রমিকদের চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাদ্য ও সন্তানের লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা আগামী ২৩ তারিখে ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থীদের সাথে শ্রমিক সংলাপ করবো। দাবিগুলো উত্থাপন করবো। সেখানে শ্রমিকরা প্রার্থীদের সাথে কথা বলবেন।’
এসময় জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক এবং শ্রমজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
