-6.2 C
New York

জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।
 
আজ মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস করে।
 
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ইউএনআরডব্লিউএ।

এক বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র জোনাথন ফাওলার জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষীদের বের করে দেয়। এরপর বুলডোজার দিয়ে বড় বড় ভবনসহ কয়েকটি ছোট স্থাপনা ভাঙা শুরু করে।
 
জোনাথন ফাওলার বলেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএ এবং জাতিসংঘের স্থাপনার ওপর এটি এক নজিরবিহীন হামলা। একইসঙ্গে এটি জাতিসংঘের বিশেষ অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি সতর্কবার্তা। আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা ঘটছে, আগামীকাল তা বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গেও ঘটতে পারে।’

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে হামাসকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। 

তাদের দাবি, সংস্থাটির কিছু কর্মী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় জড়িত ছিল—যার মধ্য দিয়ে গাজায় যুদ্ধের সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েল। 

গত বছর ইসরায়েলের নির্দেশে ওই কার্যালয় ব্যবহার বন্ধ রাখে ইউএনআরডব্লিউএ। ইসরায়েল তখন সংস্থাটিকে তাদের সব স্থাপনা খালি করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছিল।

এএফপি জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তসহ একাধিক অনুসন্ধানে ইউএনআরডব্লিউএতে কিছু ‘নিরপেক্ষতা–সংক্রান্ত সমস্যা’ পাওয়া যায়। তবে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রধান অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনা ভাঙার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেনগভি।
 
ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন, এটি উৎসবের দিন এবং জেরুজালেমের শাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। বছরের পর বছর এখানে সন্ত্রাসবাদের সমর্থকরা ছিলো। তারা যা কিছু তৈরি করেছিল—সবকিছু সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আজ।’

সন্ত্রাসবাদের সব সমর্থকের সঙ্গেই এমনটাই হবে বলে সতর্কও করেন তিনি।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভাঙচুরের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানায়, জেরুজালেমের এই কম্পাউন্ডটি ইসরায়েল রাষ্ট্রের মালিকানাধীন।
 
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজকের পদক্ষেপ কোনো নতুন নীতি নয় বরং ইউএনআরডব্লিউএ–হামাস সংক্রান্ত বিদ্যমান ইসরায়েলি আইনের বাস্তবায়ন।’

এটি দখলের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

গাজা, পশ্চিম তীরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা ও আশ্রয় দিয়ে থাকে ইউএনআরডব্লিউএ।

Related Articles

Latest Articles