শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত আরও একজন মারা গেছেন।
সর্বশেষ নিহত ব্যক্তির নাম নয়ন মোল্লা (২৫)। তিনি বিলাসপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. জয়নাল মোল্লার ছেলে।
গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন জনে।
গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আহত মো. নবী হোসেন (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে।
এর আগে ৮ জানুয়ারি ঘটনার দিনই মারা যান সোহান ব্যাপারী (৩২)। তার মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয়। সোহান একই গ্রামের দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, শুক্রবার ভোর রাতে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৫৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দি এলাকায় একটি টিনের ঘরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে ঘরের চালা উড়ে যায়। বিস্ফোরণের পর সোহান ব্যাপারীর মরদেহ পাওয়া যায় এবং নয়ন মোল্লা ও মো. নবী হোসেন গুরুতর আহত হন।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পরদিন অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। উদ্ধার করা হয় গান পাউডার, স্প্লিন্টার, ভাঙা কাচ, তারের কাঁটা, ককটেলের খোসা, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বোমা তৈরির নানা সরঞ্জাম।
এছাড়া গত সোমবার যৌথ বাহিনী বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫টি বোমাসদৃশ বস্তু, বেশ কয়েকটি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি চাকু, একটি ড্রোনসহ বেশকিছু জিনিস উদ্ধার করে।
