7.1 C
New York

গণভোটের প্রচারের নির্দেশনায় ব্যাংকারদের মধ্যে অস্বস্তি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠেয় গণভোটে প্রচার চালাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নির্দেশনায় ব্যাংকিং খাতের অনেক শীর্ষ নির্বাহীর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি শাখায় ব্যানার টাঙিয়ে গণভোটে মানুষকে উৎসাহিত করতে অনুরোধ করেছে। তবে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সম্প্রতি এক বৈঠকে তাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য বলা হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, গত ৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠির ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর সপ্তাহখানেক পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে জোর দেওয়া হয়।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন দ্য ডেইলি স্টারকে এই কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) স্পষ্টভাবেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা এনজিওগুলোকে অর্থ দেওয়ার জন্যও ব্যাংকগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। এবিবি এ কাজে সহায়তা করবে।

মাসরুর আরেফিন এই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিলেও অনেক জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিইও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক হওয়ায় এটি আনুষ্ঠানিক ফোরামে না তুলে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করা যেত। গণভোটের ‘হ্যাঁ/না’ প্রশ্নে বিভিন্ন বিষয়ে স্বার্থের সংঘাত থাকতে পারে।

আরেক ব্যাংকের সিইও বলেন, আদর্শগতভাবে ব্যাংকগুলোর এতে জড়ানো উচিত নয়। সরকার চাইলে একাই এই প্রচার চালাতে পারে।

এক ব্যাংকের সাবেক এমডি বলেন, এটি ব্যাংকের কাজ নয়। কিন্তু সরকার যখন কিছু চায়, তখন ব্যাংকগুলোর না করার উপায় থাকে না।

তবে চতুর্থ একটি ব্যাংকের সিইও দাবি করেন, ব্যাংকগুলোকে ‘বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ’ করা হয়েছে, কোনো জোর করা হয়নি। যদিও রাজনৈতিক ইস্যুতে জড়ানো নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

এই বিতর্ক এমন সময়ে উঠল, যখন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২’ সংশোধনের চেষ্টা করছে। অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে ব্যাংকিং খাতের অবনতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন।

সমালোচকেরা বলছেন, এই চর্চা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে ব্যাংকগুলোকে সরকারি উদ্যোগে বা রাজনৈতিক প্রচারে বাধ্য করার অভিযোগ ছিল।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই নির্দেশনাকে ‘গণভোটের স্বচ্ছতার লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে এখানে পক্ষ নেওয়া উচিত নয়। এটি জনগণের পছন্দের বিষয়। পক্ষ নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র জবরদস্তি করছে, যাকে আমি “হাসিনা পদ্ধতি” বলব। এতে প্রমাণিত হয় আমলাতন্ত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকারের অনুরোধে অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্য ব্যাংকগুলোকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাতে বলেছে।

Related Articles

Latest Articles