খামেনি সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে পাল্টা বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আল জাজিরা ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম আজ সোমবার জানিয়েছে, তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারে সরকারের পক্ষে বড় আকারের জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন।
চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের সংহতি প্রদর্শনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নামে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে রাজধানীতে বিশাল জনসমাবেশ দেখা গেছে।
তাসনিমের খবরে বলা হয়, কেরমান, জাহেদান ও বিরজান্দসহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের সমাবেশ হয়েছে। এ ছাড়া সেমনান প্রদেশের শাহরুদে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজা ও শোকমিছিলেও বড় জমায়েত দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসব ঘটনাকে ‘আমেরিকান-জায়নিস্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনতার অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে সোমবার বিক্ষোভ করার আহ্বান জানায়।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দেশের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি চলমান অস্থিরতায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণের ভিডিও ফুটেজসহ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকি সংস্কারের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৯০ জনই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
