ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন–পীড়নে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় তেহরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী সামরিক বিকল্প’ বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী এটি পর্যালোচনা করছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সহিংসতায় অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৯০ জনই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপ জানিয়েছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ১৯২ জন।
দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানায় সংস্থাগুলো।
উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান যোগাযোগ করেছে এবং আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
শনিবার রাতে ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে… যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক হামলা, সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে সহায়তা দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহের ছেলে রেজা পাহলভি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তিকে দায়ী করেছেন এবং সোমবার ‘জাতীয় প্রতিরোধ মিছিল’-এ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইরানে চলমান এই আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
