-3 C
New York

রাশফোর্ডকে স্থায়ীভাবে রেখে দিতে চায় বার্সেলোনা

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা পেছনে ফেলে বার্সেলোনায় যেন নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন মার্কাস রাশফোর্ড। ধারে এলেও কাতালান জার্সিতে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে এতটাই সন্তুষ্ট বার্সা, যে মৌসুম শেষে এই সম্পর্ককে আর সাময়িক না রেখে স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।

গত জুলাইয়ে এক মৌসুমের জন্য ধারে বার্সেলোনায় যোগ দেন ২৮ বছর বয়সী রাশফোর্ড। শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে ৩ কোটি ইউরো (প্রায় ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড) দিয়ে তাকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ রয়েছে বার্সার। হান্সি ফ্লিকের অধীনে খুব দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা রাশফোর্ড সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৬ ম্যাচে সাত গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা তার প্রভাবেরই প্রমাণ।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালে সাবেক কোচ রুবেন আমোরির অধীনে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারান রাশফোর্ড। তবে বিষয়টি শুধু কোচের সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্লাব হিসেবেও ইউনাইটেড তার কাছ থেকে আরও বেশি নিষ্ঠা ও পেশাদার মনোভাব প্রত্যাশা করছিল, বিশেষ করে দলের শীর্ষ বেতনভোগীদের একজন হওয়ায়। জানুয়ারির শুরুতে আমোরি বরখাস্ত হলেও রাশফোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউনাইটেডের অবস্থানে তাত্ক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসেনি।

২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ইউরোপা লিগে ভিক্টোরিয়া প্লজেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামেননি রাশফোর্ড। গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি ধারে খেলেন অ্যাস্টন ভিলায়, যেখানে ১৭ ম্যাচে চার গোল করেন। তবে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে তার মৌসুম শেষ হয়ে যায় আগেভাগেই। এরপর মার্চে তিনি আবার ইংল্যান্ড দলে ফেরেন এবং থমাস টুখেলের অধীনে নিয়মিতই জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন।

রাশফোর্ডকে ঘিরে বিতর্কের সূচনা হয় মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। ১৫ ডিসেম্বর ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ডার্বিতে তাকে দল থেকে বাদ দেন আমোরি। তখন দ্য অ্যাথলেটিক জানায়, এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাতে বাইরে যাওয়ার খবর নিয়ে সামাজিক জীবন সম্পর্কে প্রশ্ন করার পরই তাকে একাদশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই জানুয়ারিতেই এক সংবাদ সম্মেলনে আমোরি বলেছিলেন, ক্যারিংটনে প্রতিদিন শতভাগ না দেওয়া কোনো খেলোয়াড়কে নেওয়ার চেয়ে তিনি তার ৬৩ বছর বয়সী গোলকিপিং কোচকেও বদলি হিসেবে নামাতে রাজি, এই মন্তব্যের কেন্দ্রে ছিলেন রাশফোর্ডই।

পরবর্তী সময়ে গ্রীষ্মকালীন প্রস্তুতিতে রাশফোর্ড ‘বম্ব স্কোয়াড’-এর অংশ হয়ে আলেহান্দ্রো গার্নাচো, অ্যান্তনি, টাইরেল মালাসিয়া ও জেডন সানচোর সঙ্গে মূল দলের বাইরে অনুশীলন করেন। সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনায় পাড়ি জমান তিনি। পেছনের কক্ষের সম্পর্ক ভেঙে পড়ার পর ৫ জানুয়ারি আমোরিকে বরখাস্ত করে ইউনাইটেড।

জুলাইয়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সময় চুক্তির অংশ হিসেবে রাশফোর্ডের পুরো বেতনই বহন করছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। চলতি মৌসুমে লা লিগায় তিনি ১২ ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছেন, আর লিগ টেবিলের শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে আছে বার্সা।

অক্টোবরে ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশফোর্ড নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ধারের মেয়াদ শেষের পরও তিনি বার্সেলোনায় থাকতে চান। তার ভাষায়, ইউনাইটেডে প্রায় পুরো ক্যারিয়ার কাটানোর পর তার ‘একটি পরিবর্তন দরকার ছিল’। রাশফোর্ড বলেন, ‘ওহ হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি এই ক্লাবটা উপভোগ করছি। ফুটবল যারা ভালোবাসে, তাদের জন্য বার্সেলোনা ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্লাব।’

২০১৫ সালে ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেকের পর ক্লাবটির জার্সিতে ৪২৬ ম্যাচে ১৩৮ গোল করেছিলেন রাশফোর্ড। এখন সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে বার্সেলোনায় নতুন করে নিজের ক্যারিয়ারের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন তিনি, আর সেটিকেই স্থায়ী রূপ দিতে আগ্রহী কাতালান জায়ান্টরা।
 

Related Articles

Latest Articles