-3 C
New York

এক ট্রফি, দুই বাস্তবতা: সুপার কাপে মুখোমুখি বার্সেলোনা ও রিয়াল

মৌসুমের প্রথম শিরোপা হলেও স্প্যানিশ সুপার কাপের গুরুত্ব এখন আর কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা ও কোপা দেল রের পর গুরুত্বের বিচারে চতুর্থ স্থানে থাকলেও, বছরের পর বছর এই ট্রফিটি অর্জন করেছে এক অনস্বীকার্য আবেগী মূল্য। কারণ, প্রায় প্রতিবারই এটি হয়ে ওঠে স্প্যানিশ ফুটবলের দুই মহাশক্তি বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ফর্ম, মানসিক দৃঢ়তা ও মৌসুমজুড়ে সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট সূচক। 

সেই ধারাবাহিকতায় এবারও রোববার রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। সৌদি আরবে চার দলীয় ফরম্যাটে সুপার কাপ আয়োজন শুরুর পর এটি তাদের পঞ্চম এল ক্লাসিকো। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এই ম্যাচে জয় বা পরাজয়ের প্রভাব প্রায় সবসময়ই মৌসুমের বাকি সময়জুড়ে ছায়া ফেলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম, যদিও বার্সা ও রিয়ালের জন্য সেই প্রভাবের মাত্রা একেবারেই আলাদা।

একসময় সুপার কাপকে তুলনামূলকভাবে হালকা করে দেখার যে প্রবণতা ছিল, তা যে এখন পুরোপুরি অতীত, তার বড় প্রমাণ রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। হাঁটুর চোটে ভোগা কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে কোচ জাবি আলোনসো আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি একাদশ নির্বাচনে ‘কামিকাজে’ হবেন না। তবুও ব্যক্তিগত বিমানে করে সুপারস্টার ফরোয়ার্ডকে দলে টেনে আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তই স্পষ্ট করে দিচ্ছে ম্যাচ-পূর্ব বাস্তবতা। চাপটা বেশি রিয়াল মাদ্রিদের দিকেই, বিশেষ করে আলোনসোর প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন উঠতে থাকায়। বিপরীতে, এই মুহূর্তে ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে বার্সেলোনাকেই।

যে কারণেই আলোনসো ম্যাচের আগে রিয়াল শিবিরে আস্থার বার্তা জোরালো করতে চেয়েছেন, ‘আমরা পারব, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।’ অন্যদিকে, বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক বিষয়টিকে দেখছেন আরও দূরদর্শী দৃষ্টিতে। নিজের গড়া চক্রকে আরও দৃঢ় ও স্থায়ী করতে এটি হতে পারে তার চতুর্থ শিরোপা। সেই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে অতীতের এক উজ্জ্বল স্মৃতি, ২০২৫ সালের জানুয়ারির সুপার কাপ, যেখানে তার নেতৃত্বেই রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল বার্সা।

এই প্রেক্ষাপটে সুপার কাপের এই শিরোপা যেন রিয়ালের জন্য একান্ত প্রয়োজন, আলোনসোর বিতর্কিত প্রকল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। আর ফ্লিকের জন্য এটি নতুন করে আশার আলো, নিজের দলের ওপর বিশ্বাস আরও দৃঢ় করার সুযোগ। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বার্সা কোচ সচেতনভাবেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান এবং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা দুটোর মাঝেই। ‘মাদ্রিদের দারুণ দল আছে, আমাদেরও আছে,’ এই বক্তব্যেই তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার। অক্টোবর মাসে লিগ ক্লাসিকোতে বার্নাব্যুতে হারের প্রতিশোধের আগ্রহ বাড়বে কি না এ প্রশ্ন তিনি নাকচ করলেও, ফুটবল মহলে কারও অজানা নয়, এই ফর্মে বার্সার জয় রিয়ালের জন্য মানসিকভাবে হতে পারে বড় ধাক্কা।

তবে ফ্লিকের কথাবার্তায় কোনো ঔদ্ধত্য নেই। লক্ষ্য একটাই, ‘সবকিছু জিততে চাওয়া’। কত গোলের ব্যবধানে জিতবে, এ ধরনের প্রশ্নকে তিনি মনে করেন উগ্র সমর্থকদের আবেগী ভাবনা, মাঠের দলের নয়। কারণ বাস্তবতা হলো বার্সেলোনা সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে ৫-০ গোলের বড় জয় পেলেও, রিয়াল মাদ্রিদ অ্যাতলেতিকোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যাচে বিশেষ কোনো ঝলক না দেখিয়ে, নিজেদের চিরাচরিত টিকে থাকার মানসিকতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে।

সব মিলিয়ে বর্তমান ফর্ম, খেলোয়াড়দের ছন্দ এবং মাঠের ফুটবলীয় অনুভূতি বার্সেলোনার পক্ষেই কথা বলছে। বিশেষ করে এমবাপেকে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হওয়া রিয়াল ও অস্থায়ী রক্ষণভাগের বাস্তবতায়। এখন বার্সার সামনে মূল চ্যালেঞ্জ একটাই, মাঠে প্রমাণ করা যে নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই, এবং কোনোভাবেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ না দেওয়া। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপার কাপ আর শুধু একটি ট্রফি নয়, এটি পুরো মৌসুমের গতিপথ নির্ধারণ করে দেওয়ার শক্তিশালী এক বার্তা।

Related Articles

Latest Articles