-5.5 C
New York

শীতে রংপুরে জমে উঠেছে ‘রাসায়নিকমুক্ত খেজুর গুড়ে’র ব্যবসা

কনকনে ঠান্ডা আর টানা শৈত্যপ্রবাহে খেজুর গাছের রসে ভরে উঠেছে রংপুর অঞ্চল। তীব্র শীতের কারণে এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রস মিলছে। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘রাসায়নিকমুক্ত খেজুর গুড়’–এর ব্যবসা।

রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোর থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা। বড় কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে চোখের সামনেই তৈরি হচ্ছে ধোঁয়া ওঠা খাঁটি গুড়। ভেজালমুক্ত গুড় কিনতে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন গাছিদের উঠোনে।

বাজারে সাধারণ খেজুর গুড় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া গেলেও গাছিদের তৈরি রাসায়নিকমুক্ত গুড় বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০০ টাকায়। গত বছর এই গুড়ের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারের গুড়ে সুগন্ধ থাকে না, বেশি দিন ভালোও থাকে না। কিন্তু গাছির কাছ থেকে কেনা গুড়ের ঘ্রাণ তীব্র এবং এক বছর রাখলেও নষ্ট হয় না। দাম বেশি হলেও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তারা খাঁটি গুড়ই বেছে নিচ্ছেন।

লালমনিরহাটের ভাটিবাড়ী গ্রামের গাছি বদিয়ার রহমান জানান, তিনি চুক্তিতে ৪০০টি গাছ নিয়েছেন। পাঁচজন মিলে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করেন। কুয়াশা ও ঠান্ডা বেশি থাকলে প্রতিটি গাছ থেকে ৩-৪ কেজি রস মেলে। ১১-১২ কেজি রস জ্বাল দিয়ে এক কেজি গুড় তৈরি করতে সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা।

বদিয়ার বলেন, ‘বর্তমানে কাঁচা রস ৪৫-৫০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আমরা প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় গুড় বিক্রি করছি। অনেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে গুড়ের অর্ডার দিচ্ছেন।’

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের গাছি সুলতান হোসেন জানান, তারা সাতজন মিলে ৫০০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাসায়নিক বা সোডা ব্যবহার করি না। চোখের সামনেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করি।’

রংপুরের মীরবাগ এলাকার গাছি আজগর আলীর চুক্তিতে নেওয়া ৭০০ গাছ থেকে প্রতিদিন এখন গড়ে আড়াই হাজার কেজি রস মিলছে। সপ্তাহখানেক আগেও যা ছিল এর অর্ধেক। প্রতিদিন প্রায় ২০০ কেজি গুড় তৈরি হচ্ছে এবং সবটাই সেখান থেকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাই আপাতত পাইকারদের কাছে গুড় দিচ্ছেন না তিনি।

ওই এলাকার কৃষক সুদীর মোহন্ত জানান, তিনি ৩৫টি গাছ চুক্তিতে দিয়েছেন। প্রতি গাছের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়ার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে রস ও গুড়ও পান।

লালমনিরহাট শহরের কলেজশিক্ষক শামসুল হক বলেন, ‘খাঁটি গুড় পেতে গাছিকে অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছিলাম। ইতিমধ্যে ২০ কেজি কিনেছি। আরও কেনার ইচ্ছে আছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার খেজুরগাছ আছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মার্চ পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রসের ৮০ শতাংশই গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুরে রাসায়নিকমুক্ত খেজুর গুড়ের বড় বাজার তৈরি হয়েছে। রাজশাহী থেকে আসা গাছিরা চুক্তিতে গাছ নিয়ে গুড় তৈরি করায় স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ভোক্তারাও ভেজালমুক্ত গুড় পাচ্ছেন।’

Related Articles

Latest Articles