3.5 C
New York

জয়ের ছন্দ আর বড় স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুত সহযোগী দেশগুলো

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দীর্ঘদিন ধরেই সহযোগী দেশগুলোর জন্য নিজেদেরকে প্রমাণের এক মঞ্চ— যেখানে উদীয়মান দলগুলো ক্রিকেটের পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্যের পরীক্ষা দেয়।

বিশ্বকাপের এই দশম আসরে চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি যোগ দিচ্ছে নতুন দল ইতালি। একটি ঐতিহাসিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হতে যাচ্ছে তাদের। ফুটবলের জন্য পরিচিত ইতালির এই ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারকেই ফুটিয়ে তুলছে। ওয়েন ম্যাডসেনের নেতৃত্বে বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৭ নম্বরে থাকা দলটি কাগজে-কলমে অনেকটা পিছিয়ে। সবশেষ ২০২৪ বিশ্বকাপের পর মাত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তাদের জয় তিনটিতে।

তবুও যে দেশে ক্রিকেট এখনও জনপ্রিয়তার তলানিতে, সেখানে বাছাইপর্বের গণ্ডি পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নেওয়াটাই ইতালির জন্য এক বিশাল সার্থকতা। এই টুর্নামেন্ট তাদের জন্য কেবল জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলার এক দারুণ সুযোগ।

তবে ইতালির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আসরে এসেছে বেশ কিছু সহযোগী দেশ। রোহিত পৌডেলের নেতৃত্বাধীন নেপাল এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে। র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরে থাকা দলটি গত বিশ্বকাপের পর থেকে খেলা ২৪টি ম্যাচের ১৬টিতেই জয় পেয়েছে। যদিও এর আগে তারা কখনও প্রথম রাউন্ড পার হতে পারেনি, তবে নেপালের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা একটি বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একইভাবে উন্নতির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী কানাডারও। দিলপ্রীত বাজওয়ার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে ২৫টি ম্যাচের ১৭টিতেই তারা জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, মোনাঙ্ক প্যাটেলের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সবশেষ আসরের সুপার এইটে খেলার আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে। শেষ ২০টি ম্যাচের ১২টিতে জয় পাওয়া  দলটি এখন আর কোনো সাধারণ প্রতিপক্ষ নয়।

অভিজ্ঞতাও এবার বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২১ সালের বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে অংশ নেওয়া নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার কৌশলগত দক্ষতা ও টুর্নামেন্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সাল থেকে ৪১টি ম্যাচ খেলে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে। অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিমের নেতৃত্বে নিয়মিত ভালো ফলাফল পাচ্ছে তারা। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওমানের জন্য এবারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাম্প্রতিক মিশ্র পারফরম্যান্স কাটিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফেরা।

এই দলগুলোর কাছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানে কেবল একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নয়, বরং এটি হলো ক্রিকেটীয় উন্নতি, বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি ও নিজেদের আত্মবিশ্বাসে আস্থা রাখার লড়াই। আর তাদের মধ্যে ইতালির জন্য  বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নামাটাই হবে এক গৌরবময় নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

Related Articles

Latest Articles