আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংগঠনটি বলছে, নথিভুক্ত হওয়া সহিংসতার ঘটনাগুলোতে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আর এসব ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে গ্রামাঞ্চলে।
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘প্রাক্-নির্বাচন পর্বে নির্বাচনী সহিংসতা: মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে অধিকার।
ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির (ইপিডি) সহযোগিতায় গত ১৮ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২টি জেলার ৫০টি নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতার ঘটনা পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে অধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই সময়ে ১৪টি জেলায় ৩০টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে অধিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তদন্ত বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুব কম ছিল, যা অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির ধারণাকে আরও পোক্ত করেছে।’
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটনা ভোটার ও প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে বা নিরুৎসাহিত করেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সহিংসতার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি জড়িয়েছে বিএনপির অনুসারীরা, এরপরই রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র (হটস্পট) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে যথাক্রমে সাতটি ও চারটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
সহিংসতার ধরন বিশ্লেষণ করে অধিকার জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের এই সময়ে ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি-ধমকির ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি (৩৩ শতাংশ)। এরপর রয়েছে সম্পত্তির ক্ষতিসাধন (২০ শতাংশ), শারীরিক সংঘর্ষ (১৭ শতাংশ) এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া (১৭ শতাংশ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতার দুই-তৃতীয়াংশ ঘটনা ঘটেছে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে। আর অর্ধেক ঘটনা ঘটেছে রাস্তাঘাট ও বাজারের মতো জনপরিসরে।
অধিকারের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর তাসকিন ফাহমিনা বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আমরা আশা করি, আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবার যেন নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
তৃণমূলের কর্মীরা যাতে সহিংসতায় না জড়ায়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে নির্বাচনের পরেও নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েনের সময়সীমা (বর্তমানে তিন দিন) বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধিকারের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কোরবান আলী, অ্যাডমিন ডিরেক্টর নাসিরউদ্দিন এলান এবং গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য সাজ্জাদ হোসেন।
