চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ রোববার উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামে দুপুর তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বনি ইসরাইল দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। খবর শুনে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শুনতে পাই ওখানে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা হাতাহাতি বা মারামারির ঘটনা ঘটছে। পরে তাৎক্ষণিক এসিল্যান্ডকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনীরও একটা টিম পাঠাই। তবে তারা পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছিল।’
ইউএনও পান্না আরও বলেন, ‘জামায়াতের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, তাদের মহিলা কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেন ও মারধর করেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা মানুষজনকে কোরআন ছুঁইয়ে শপথ করাচ্ছিলেন। এলাকাবাসী তাদেরকে এসব কারণে বাধা দেয়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পৌঁছানোর আগেই সবাই সরে যাওয়ায় কারো বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
আহতরা হলেন বিএনপির জুগিরহুদা গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে মানিক মিয়া (৩৬), একই গ্রামের মানিকের স্ত্রী মুক্তি খাতুন মুক্তা (৩৫), মতিয়ার রহমানের ছেলে রাকিব (১৯), শামিমের স্ত্রী রিক্তা খাতুন (২৬), মৃত শুকুর আলীর ছেলে হায়দার আলী বিশ্বাস (৬২), বজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৫৫), মুসছুর আলীর ছেলে আসাদুল হক (৫২), হাফিজুরের মেয়ে রেমনি খাতুন (২০) ও হাসিবুল হক বিশ্বাসের ছেলে আরাফাত আলী (২৪)। জামায়াতের ওল্টু, মাসুদ, বাদশা, আরিফুল ও ইমরান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।
আহতদের দেখতে হাসপাতালে এসে চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর ও আলমডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠের শান্ত পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করা হচ্ছে। জামায়াতের হামলায় নারীসহ বিএনপির ৯ জন আহত হয়েছেন।’
জামায়াতে প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জামায়াতের ৬-৭ জন নারী কর্মী সেখানে প্রচার চালাতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আটকে রাখেন। পরে আমাদের নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে উদ্ধার করতে গেলে বিএনপির হামলায় দলের ৬ জন আহত হয়েছেন।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আফরিনা ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিকেল ৫টার পর আহত অবস্থায় ৯ জন জরুরি বিভাগে আসেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
