-3 C
New York

‘জাভেদকে হারিয়ে একা হয়ে গেলাম’

ঢাকাই সিনেমার সোনালি যুগের নায়ক ইলিয়াস জাভেদ। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল মৃত্যুবরণ করেন। তার কাছের বন্ধু ছিলেন সোহেল রানা।

বন্ধু জাভেদকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন সোহেল রানা।

‘আমার সমসাময়িকদের বেশিরভাগ বেঁচে নেই। অল্প কয়েকজন বেঁচে আছেন, তার মধ্যে নায়ক জাভেদ একজন ছিলেন। তিনিও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। জাভেদকে হারিয়ে একা হয়ে গেলাম, ভীষণ একা হয়ে গেলাম,’ বলেন তিনি।

সোহেল রানা বলেন, ‘জাভেদ আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম। টানা কয়েক দশক ধরে একসঙ্গে পথচলা।’

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘জাভেদ শুধু নায়ক ছিলেন না। একজন নামকরা নৃত্য পরিচালকও ছিলেন। এ দেশের অনেক সুপারহিট সিনেমায় তিনি নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি উপমহাদেশের বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজের কাছে নাচ শিখেছিলেন। এ কারণে নৃত্য পরিচালকদের অনেকে তাকে ওস্তাদ বলে ডাকতেন।’

তিনি বলেন, আমরা কাছাকাছি সময়ে অভিনয় শুরু করি। ১৯৭১ সালের পর আমাদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব শুরু। সেই বন্ধুত্ব চিরদিন ছিল। কতোটা কাছের ছিলেন তা বলে বোঝানো যাবে না। আমার বহু সিনেমার নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তার কাজ মানেই দারুণ কিছু ছিল। কাজ তাকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগের পর যুগ।

নায়ক জাভেদ পাকিস্তানি হওয়ার পরও বাংলাদেশে থেকে যান এবং নিয়মিত সিনেমায় অভিনয় ও নৃত্য পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘জাভেদ কিন্তু এ দেশের মানুষ ছিলেন না। পাকিস্তানি হওয়ার পরও এ দেশে থেকে যান। তাকে বেশি ভালো লাগত দেশকে ভালোবেসে থেকে যাওয়ার জন্য। বাংলাদেশকে জাভেদ খুব ভালোবাসতেন।’

সোহেল রানা বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে ভীষণ ভালোবাসতেন জাভেদ। কখনোই তাকে উর্দুতে কথা বলতে দেখিনি। সবসময় বাংলায় কথা বলতেন এবং সুন্দর করে কথা বলতেন। এ দেশকেই নিজের দেশ মনে করতেন। এগুলো দেখে তার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বেড়েছিল।’

Related Articles

Latest Articles