-6.2 C
New York

গাজা শান্তি পর্ষদের সদস্য হতে লাগবে বিলিয়ন ডলার, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন 

গাজা পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে গঠিত গাজা শান্তি পর্ষদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের তৈরি খসড়া সনদ ফাঁস হয়েছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা শান্তি পর্ষদের দীর্ঘমেয়াদি সদস্যপদ পেতে অন্তত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ অর্থ দিতে হবে। 

ব্লুমবার্গ জানায়, নথি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি দেশের কাছে এই খসড়া সনদ পাঠিয়েছে। 

নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই সনদ কার্যকর হওয়ার প্রথম এক বছরের মধ্যে যারা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি নগদ দেবে তাদের জন্য তিন বছরের মেয়াদ প্রযোজ্য হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘দেশগুলো বিনা অর্থেও বোর্ডে যোগ দিতে পারবে। তবে ১ বিলিয়ন ডলার দিলে স্থায়ী সদস্যপদ মিলবে।’

এসব অর্থ গাজা পুনর্গঠনসহ শান্তি পর্ষদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পর্ষদে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কার্যকর হবে চেয়ারম্যানের অনুমোদন সাপেক্ষে। একইসঙ্গে সদস্যদের মেয়াদ নবায়ন করবেন চেয়ারম্যান।

খসড়া সনদ অনুযায়ী, ট্রাম্প চাইলে যেকোনো সদস্য রাষ্ট্রকে পর্ষদ থেকে অপসারণ করতে পারবেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে নিজের উত্তরসূরি মনোনয়নের ক্ষমতাও ট্রাম্পের হাতে থাকবে।

গাজা শান্তি পর্ষদ বছরে অন্তত একবার ভোটাভুটি সভা করবে। প্রয়োজনে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত সভাও ডাকা যাবে। সভার আলোচ্যসূচিও নির্ধারণ করবেন ট্রাম্প। পর্ষদের সিল বা প্রতীক অনুমোদনও ট্রাম্পের হাতে থাকবে।

তিনটি সদস্য রাষ্ট্র চূড়ান্ত সনদে সম্মতি দিলেই ‘শান্তি পর্ষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলা হয়, গাজা শান্তি পর্ষদের খসড়া সনদ ফাঁস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাবের নৈতিকতা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। 

একাধিক দেশ এর বিরোধিতা করছে এবং সম্মিলিতভাবে প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সমালোচক ট্রাম্প বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

Related Articles

Latest Articles