7.8 C
New York

‘স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা’

বাংলাদেশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার, এমনটাই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর মিরপুরের বাসভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক কয়েক সপ্তাহের জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন, যদিও ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা–১৬ আসনে তিনি অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।

ভোলায় জন্ম নেওয়া এবং মিরপুরে বেড়ে ওঠা আমিনুল দেশের শীর্ষ লিগে ক্যারিয়ার শুরু করেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সাঈদ হাসান কাননের পর তিনি ছিলেন তৃতীয় পছন্দের কিপার। ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, প্রায় পুরো সময়ই ছিলেন মূল একাদশে।

স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা

প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ পাঁচটি ক্রীড়া বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪৯৫টি উপজেলায় প্রতিটি পাঁচটি ডিসিপ্লিনের জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক এবং একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সরকারি বেতনভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার

তিনি বলেন, অতীতে আয়োজক, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সরকার সেই ব্যবধান কমিয়ে সব অংশীজনের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চায়, যাতে সুস্থ ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে ওঠে।

ভারতের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংসদ এলাকায় ভারতের উপহাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান আমিনুল। কূটনৈতিকভাবে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সম্পর্ক জোরদার করতে চান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী সমাধানের কথা বলেন।

বিসিবি, সাকিব ও মাশরাফি প্রসঙ্গ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললেও দেশের দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে কিংবদন্তি আখ্যা দেন তিনি। তাদের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধান খোঁজার কথা জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’

ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে আমিনুল বলেন, খেলাধুলায় কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

অবসরের পর খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ

অবসর নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এতে খেলোয়াড়রা ক্যারিয়ারের সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

রাজনীতি ও খেলাধুলা

তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি জড়িয়ে আছে। একদিনে তা দূর করা সম্ভব নয়, তবে খেলাধুলাকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।

 

Related Articles

Latest Articles