0.7 C
New York

সৌদি ছাড়লে কোথায় যাবেন রোনালদো?

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে আবারও জল্পনার ঝড়। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরে অস্বস্তি, মাঠের বাইরে টানাপোড়েন, ভেতরের অসন্তোষ, সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে এক প্রশ্ন: সৌদি আরব ছাড়লে রোনালদোর পরের গন্তব্য কোথায়?

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে লাভজনক চুক্তিগুলোর একটিতে (প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড সমমূল্যের) খেললেও আল-নাসরে নিজের অবস্থান নিয়ে ক্রমশ হতাশ হয়ে উঠেছেন রোনালদো। মূলত সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) নিয়ন্ত্রিত ক্লাবগুলোর মধ্যে অর্থ বণ্টন ও দল গঠনের ভারসাম্যহীনতায় তিনি অসন্তুষ্ট। আল-নাসরের ট্রান্সফার নীতিতেও নিজের প্রভাব সীমিত দেখে ক্ষোভ বেড়েছে তার।

এই অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশও দেখা গেছে মাঠে। রোনালদো টানা দুটি ম্যাচ খেলেননি, অথচ সেই ম্যাচ দুটিতে জয় পেয়েছে আল-নাসর। এতে যেমন সমালোচনা বেড়েছে, তেমনি সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, লিগের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে কোনো খেলোয়াড়ের হাতে থাকবে না, দল গঠনের সিদ্ধান্ত ক্লাবই নেবে।

এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে রোনালদোর চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, রিলিজ ক্লজ। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রায় ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড (৬০ মিলিয়ন ডলার) রিলিজ ক্লজ রয়েছে, যা আগামী ট্রান্সফার উইন্ডোতে কার্যকর করা যেতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মেই আল-নাসর অধ্যায়ের ইতি টানার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, রোনালদো সৌদি লিগ ও পিআইএফ-কে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি পর্যাপ্ত স্পোর্টিং গ্যারান্টি না পান, তাহলে সৌদি ছাড়ার পথেই হাঁটবেন তিনি। যদিও গালফ অঞ্চলের বড় একটি অংশের সমর্থন এখনও তার পাশে রয়েছে, স্টেডিয়ামে সাত নম্বর ব্যানার, ‘গোট’ স্লোগান, সবই তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

তাহলে সম্ভাব্য গন্তব্যগুলো কোথায়? রোনালদোর সৌদি ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতেই একের পর এক বিকল্প গন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্পোর্টিং লিসবন (পর্তুগাল), নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর ক্লাবে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন। আর এই গল্পটাই সবচেয়ে রোমান্টিকভাবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে এমএলএস (যুক্তরাষ্ট্র)। বিশেষ করে ইন্টার মায়ামি, যেখানে লিওনেল মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার সম্ভাবনা বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদের কল্পনাকে উসকে দিচ্ছে।

আর পুরনো শিবির ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তৃতীয় দফায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরার গুঞ্জনও উঠেছে। তবে স্কাই স্পোর্টস স্পষ্ট জানাচ্ছে, এই দরজা কার্যত বন্ধ। ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ রোনালদোকে ফেরাতে আগ্রহী নয়। ক্লাব ভবিষ্যৎমুখী পুনর্গঠনের পথে, সেখানে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে ‘স্বল্পমেয়াদি সমাধান’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সাবেক ইউনাইটেড ডিফেন্ডার ওয়েস ব্রাউনও মনে করেন, রোনালদোর ম্যানচেস্টার ফেরা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, এমএলএস বা পর্তুগালে ফেরা বেশি সম্ভাব্য পথ।

রোনালদোর সামনে এখন আরেকটি বড় লক্ষ্য, বিশ্বকাপ। পর্তুগালের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে শেষবারের মতো শিরোপার স্বপ্নই হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। সে কারণেই শোনা যাচ্ছে, চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও চাপ এড়িয়ে ফিটনেস ও ফর্মেই মনোযোগ দিতে চান রোনালদো।

Related Articles

Latest Articles