0.7 C
New York

৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪ বোয়িং কিনবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে বিমান বাংলাদেশের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে ৩০ হাজার কোটি থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার।

গতকাল নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এয়ারবাস ও বোয়িং থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলোর ভিত্তিতে একটি টেকনো-ফাইন্যান্সিয়াল বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। উপদেষ্টা

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বোয়িংয়ের সঙ্গে দাম নিয়ে আলোচনা করেছেন।’

উপদেষ্টা বলেন, দাম নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান। যদি আমরা এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তুযদি না পারি, তাহলে দুর্ভাগ্যবশত আমরা ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, আমরা উড়োজাহাজ কেনার যে প্রস্তাব দিচ্ছি, তার দাম ৩০ হাজার কোটি থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। এই অর্থ আমাদের ১০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, সময় এর চেয়েও বেশি লাগতে পারে, কারণ পরিশোধ সূচি খুব দীর্ঘমেয়াদি। পুরো অর্থ পরিশোধে ২০ বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। সে হিসাবে, বছরে আমাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ৮টি ৭৮৭-১০, ২টি ৭৮৭-৯ এবং ৪টি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনার পর বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাতে পারে।

আজ সোমবার এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে, যা হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপদেষ্টা বশির উদ্দিন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি অংশ নিতে ওয়াশিংটনে গেছেন।

আলোচনার সময় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাণিজ্য সচিবের তথ্য অনুযায়ী, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট তাদের কাঁচামালে তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে না, যেমন তুলা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, শুরুতে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সেখানে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। আমরা বিশ্বের একমাত্র দেশ, যার সঙ্গে করা এই চুক্তির শর্তগুলো বৈশ্বিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও আমরা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামাতে পেরেছি।

এই চুক্তি যদি প্রকাশ না করা হতো, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কমাতে পারতাম, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম… কিন্তু যেকোনো চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে সবসময় একটি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট থাকে। নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের অর্থ হলো, যদি কেউ কোনো সম্পত্তি কিনতে চায় বা কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে প্রবেশ করে, তাহলে চুক্তি সম্পাদিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে গোপনীয়তার একটি ধারা থাকে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেটি অবশ্যই প্রকাশ করা হবে। প্রকাশ নিয়ে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।’

তিনি যোগ করেন, ‘৯ তারিখে নির্ধারিত চুক্তির আওতায় আমরা আশাবাদী… আমরা দেখার চেষ্টা করছিলাম, এটি আর কতটা কমানো যায়। এই মুহূর্তে আমি বলতে চাই না, কিংবা বলতে পারছি না, ঠিক কতটা কমবে। আলোচনার ভিত্তিতে আমরা দেখব।’

তিনি বলেন, সরকারের প্রচেষ্টা শুধু সামগ্রিক শুল্ক কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের ওপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

‘আমরা সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি,’ বলেন তিনি।
 

Related Articles

Latest Articles