হাতে একটি মাইক, পাশে কয়েকজন কর্মী-সমর্থক। এভাবেই বগুড়া শহরের অলিগলি ঘুরে মই মার্কায় ভোট চাইছেন দিলরুবা নূরী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তিনিই একমাত্র নারী প্রার্থী।
বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নূরীর প্রচারণার দৃশ্য অন্যদের থেকে আলাদা। দূরের এলাকায় যেতে মাঝেমধ্যে পিকআপ ভ্যান ভাড়া করতে হয়, তবে বেশির ভাগ সময়ই তাকে হেঁটেই প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।
তার ভাষ্য, মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার।
পেশায় আইনজীবী নূরীর হলফনামা অনুযায়ী, তার ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। শুভানুধ্যায়ীদের অনুদানের ওপর নির্ভর করেই চলছে নির্বাচনী কার্যক্রম।
তিনি বলেন, নির্ধারিত ১৮ দিনের প্রচারণা সময়ে আসনের সাড়ে চার লাখ ভোটারের সবার কাছে পৌঁছানো বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
নির্বাচনী ব্যয়ের বৈষম্যের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বিধিতে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা খরচের কথা বলা আছে। কিন্তু সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের জন্য ৪৫ লাখ টাকা আমি কোথায় পাব? অথচ ঋণখেলাপি প্রার্থীরা প্রচারণায় অঢেল টাকা খরচ করছেন।
প্রচারণার খরচের একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি পিকআপ ও তিনটি মাইক ভাড়া করতে দিনপ্রতি ছয় হাজার টাকা লাগে। একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ধনী প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দেবে?
তার অভিযোগ, অনেক ধনী প্রার্থীই বড় ব্যাংক ঋণগ্রহীতা অথবা ঋণখেলাপি। তারা মূলত জনগণের টাকা (পরিশোধ না করা ঋণ) ব্যবহার করেই নির্বাচন করছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় নীতি ধনীদের পক্ষে। এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন শ্রমিক শ্রেণি ও নারীরা কেবল ভোটারই থাকে, প্রতিনিধি হতে না পারে।
তবে সীমিত সামর্থ্য আর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নূরী।
রাজনীতিতে নূরীর পথচলা শুরু ২০০৩ সালে ছাত্র ফ্রন্টের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সদস্যসচিব এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। বামপন্থী নয় দলের জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘মই’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নূরী জানান, শহরে মানবেতর জীবনযাপন করা শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন।
নূরী আরও বলেন, কেবল অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাই নয়, প্রচারণার সময় নারী নেতা ও কর্মীদের পোশাক নিয়ে ভোটারদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ভোট চাইতে গেলে মানুষ টাকা চায়। এই ব্যবস্থা কীভাবে তৈরি হলো?
পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলে নূরী বলেন, আমরা নির্বাচিত হতে চাই তাদের মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন দেওয়ার জন্য, ভিক্ষুকের মতো জীবন যাপনের জন্য নয়।
