0.6 C
New York

কেন নেপাল ক্রিকেট দলকে ‘কার্ডিয়াক কিডস’ বলা হয়?

এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে  নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের মতো দলের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল নেপাল। জেতার তুমুল সম্ভাবনা জাগিয়েও তারা হেরে যায় মাত্র ৪ রানে। গত বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দলটি হেরেছিল স্রেফ ১ রানে। 

গত এক দশকে নেপাল ক্রিকেটের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এশিয়া কাপ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—সবখানেই লড়ছে তারা। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার পর ২০২৪ এবং সবশেষ ২০২৬ আসরেও খেলছে নেপালিরা।

আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ নেপাল টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ  খেলার সুযোগ পায় না। মাত্র ১০ ম্যাচ খেলেছে তারা বড় দলের বিপক্ষে। এরমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছে সিরিজ, জেতার সম্ভাবনা জাগিয়েছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষে। 
এই দলের একটা সহজাত বৈশিষ্ট্য হলো তারা লড়াকু, ম্যাচকে একদম শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করা আর হারতে হারতে ঘুরে দাঁড়ানোয় তাদের জুড়ি নেই। ভক্তদের বারবার হার্টবিট বাড়িয়ে দেয় বলে নেপাল দলকে ভালোবেসে ডাকা হয় ‘কার্ডিয়াক কিডস’। কারণ ভক্ত সমর্থকদের হৃদযন্ত্রের প্রায়ই পরীক্ষা নেয় তারা। 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ বলের থ্রিলার

নেপালের এই অদ্ভুত ডাকনামের রহস্য জানিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পারস খাড়কা। উইজডেনকে তিনি বলেন, ‘মাঠের ভেতরে-বাইরে কঠোর পরিশ্রম করে আমরা এখানে এসেছি। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সবসময় সহজ জয় চাই। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সবকিছুই যেন শেষ বলে গিয়ে ঠেকে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, ম্যাচকে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

যারা আগে নেপালকে গুরুত্ব দেয়নি, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের লড়াই দেখে তারাও এখন অবাক।

জায়ান্টদের স্তব্ধ করার খুব কাছে নেপাল

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল নেপাল। জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে চড়ে ইংল্যান্ড শক্ত অবস্থানে থাকলেও ভয় পায়নি নেপালি ব্যাটাররা।

দীপেন্দ্র সিং আইরির ৪৪ এবং লোকেশ বামের অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংসে ভর করে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় নেপাল। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ১০ রান। তবে স্যাম কারানের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ রান তুলতে পারে তারা। মাত্র ৪ রানের জয় নিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নেপালের এমন পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বের বড় দলগুলোকে এক কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে—সহযোগী দেশগুলোকে হালকাভাবে নেওয়ার দিন শেষ।

 

Related Articles

Latest Articles