ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে ইনকিলাব মঞ্চের আট থেকে ১০ জন নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা।
কর্মসূচি থেকে আবদুল্লাহ আল জাবের সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা বিঘ্ন হতে পারে এই বিবেচনায় আমরা অল্প কয়েকজন মানুষ এসেছি। আমরা চাইলে আরও মানুষ আনতে পারতাম। প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। বিচারের পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।
তিনি আরও বলেন, হাদি হত্যার ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এই কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।
এদিকে সন্ধ্যায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। সে সময় পুলিশ সড়কের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড বসালে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী আবদুল হান্নান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাদির বিচার নিশ্চিত করতে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর প্রশাসনও তৎপর নয়। আমরা জাতিসংঘের অধীনে সঠিক তদন্ত চাই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পৃথক স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
