টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান মহারণ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা ঘনীভূত, তখন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান গতিতারকা ব্রেট লি প্রকাশ করেছেন নিজের প্রত্যাশা। তিনি চান এই ম্যাচটি হোক, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ক্রিকেট বিশ্ব যেন উপভোগ করতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল এক ব্লকবাস্টার ম্যাচে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ওই ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তকে “যথাযথ” বলে উল্লেখ করেছেন। রোববার পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপের জন্য দলের শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমোদন দিলেও, গ্রুপ পর্বে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দেয়। ফলে ২০ দলের এই টুর্নামেন্ট তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘মিস্টার ক্রিকেট ইউএই’ পডকাস্টে ব্রেট লি বলেন, “চলুন রাজনীতিকে এর বাইরে রাখি। আমি সত্যিই চাই ম্যাচটা হোক। আশা করি তারা সুযোগটা পাবে, কারণ এটা হবে ভীষণ রোমাঞ্চকর। ভারত-পাকিস্তান খেললে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে থাকে।”
২০১২ সালে ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করা এই অজি পেসার স্পষ্টভাবে মনে করেন, এই ম্যাচ শুধু দুই দেশের নয়, পুরো ক্রিকেটবিশ্বের জন্যই একটি বিশেষ আকর্ষণ।
মূলত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে পুরো টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার উদ্বেগে ভারতে বাংলাদেশ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে, তাদের জায়গায় টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত হয় স্কটল্যান্ড। তবে আইসিসি এসব উদ্বেগ নাকচ করে দেয়। একই সঙ্গে, পাকিস্তানের সমর্থনে বাংলাদেশ যে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি তোলে, সেটিও আইসিসি প্রত্যাখ্যান করে, কারণ এত দেরিতে সূচি পরিবর্তনকে তারা অবাস্তব বলে মনে করে।
যদিও পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ম্যাচ বয়কটের বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করেনি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ।
তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না, কারণ খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়। আমরা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন জানানোই এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। এটি একটি খুবই যথাযথ সিদ্ধান্ত।”
টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাচ্ছে শনিবার থেকে। তবে গ্রুপ পর্বের বাইরে নকআউট পর্বে যদি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান কী অবস্থান নেবে, এ বিষয়ে এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।
