7.5 C
New York

প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি পূর্ণাঙ্গ মাল্টি-স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে বড় একটি ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আজ রোববার প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা ১৭৩.২ একর জমির ওপর এই বিশাল কমপ্লেক্সটি নির্মিত হবে। এখানে অন্তত ৩৩টি ভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে আনুমানিক ৩৫ হাজার থেকে ৩৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে।

অ্যাথলেটদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল ও মানসম্মত আবাসনের অভাবে বিওএ অনেকদিন ধরেই এমন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে আসছিল। কয়েক বছর আগে মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পাড়ে এই কমপ্লেক্স তৈরির প্রাথমিক সমীক্ষা হলেও সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

তবে গত বছর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বিশেষ উদ্যোগে এই প্রকল্পে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা ত্রিশালের এই নির্ধারিত স্থানটি বেশ কয়েকবার সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জায়গাটির ব্যাপারে তারা সবাই একমত হওয়ার পরই এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম কুতুবউদ্দিন পুরো পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন। এতে তিনটি ইনডোর ও ছয়টি আউটডোর ভেন্যুসহ মিডিয়া সেন্টার ও অ্যাথলেটদের থাকার সুব্যবস্থা রাখা হবে। মহাপরিকল্পনায় প্রাথমিকভাবে ক্রিকেট না থাকলেও বিওএ সভাপতির আগ্রহের কারণে এটি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স একটি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হবে, যা এশিয়ান গেমসের মতো বড় ইভেন্ট আয়োজনে সক্ষম হবে। সবকিছু প্রস্তুত, একমাত্র সীমাবদ্ধতা হলো অর্থায়ন।’

তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে তহবিল বরাদ্দের অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি যোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তা চাইবে বিওএ।

অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা মনে করেন, এই কমপ্লেক্সটি খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

নির্মাণকাজ তত্ত্বাবধান করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই প্রকল্পে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেডকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কনসালটেন্সি ফার্ম ডিএলএ। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা ও চূড়ান্ত বাজেট এখনও সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদিত হয়নি।

ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক নম্বর প্রকল্প জন্য (যার মধ্যে ইনডোর স্টেডিয়াম, ভূমি উন্নয়ন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে) জন্য আমাদের দুই হাজার কোটি টাকা ও আড়াই বছর সময় প্রয়োজন। তবে পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে আমাদের ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।’

Related Articles

Latest Articles